
অনলাইন ডেস্ক: এক পরীক্ষায় দেশের সব বিশবিদ্যালয়ে ভর্তি নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন। আগামী বছর থেকেই এই পদ্ধতি কার্যকরের কথা ভাবছে উচ্চশিক্ষা তদারকির এ প্রতিষ্ঠান। আগামীকাল সোমবার দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে একটি পরীক্ষায় অংশ নিতে নীতিনির্ধারণী সভা হবে। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সভাপতিত্বে গত সোমবার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালন নীতি ও শিক্ষার মানোন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য পরবর্তী করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে নীতিনির্ধারণী সভাটি করা হবে। এর আগে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছিলেন উচ্চ মাধ্যমিক শেষে মেধাভিত্তিক সমন্বিত একটিমাত্র পরীক্ষায় উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীরা ভর্তির সুযোগ পাবে। তবে কবে থেকে এই নিয়মে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে জানানো হয়নি। দুই বছর ধরে ভর্তির ক্ষেত্রে কিছুটা ভোগান্তি কমেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), জাহাঙ্গীর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি), বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)- এই বৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ছাড়া বাকিগুলোতে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। এক পরীক্ষায় এই পদ্ধতি চালু করতে বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আবারও আপত্তি তুলতে পারে। উচ্চশিক্ষায় ভর্তিতে বাংলাদেশে এই অবস্থা হলেও অন্যান্য দেশে একটি পরীক্ষার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়। বিশ্বব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ক্ষেত্রে কয়েকটি জনপ্রিয় পরীক্ষা হচ্ছে সেট (স্ট্যান্ডারাইজড টেস্ট), জিআরই (গ্র্যাজুয়েট রেকর্ড এক্সামিনেশন), জিম্যাট (গ্র্যাজুয়েট ম্যানেজমেন্ট অ্যাডমিশন টেস্ট)। ভারতেও একটি পরীক্ষার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। তারা এই পরীক্ষার নাম দিয়েছে কমন ইউনিভার্সিটি এনট্রান্স টেস্ট। দেশের শিক্ষাবিদ, শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা উচ্চশিক্ষার ভর্তি ক্ষেত্রে একটি সর্বজনীন পরীক্ষা চালুর দাবি জানিয়ে আসছেন।
ইউজিসি সূত্রে জানা গেছে, আগামী বছর থেকে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একক আওতাভুক্ত করে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে ন্যাশনাল টেস্টিং অথরিটি (এনটিএ) গঠন করা হবে। কমিশন এ বিষয়ে উদ্যোগ নেবে। জাতীয় মেধাভিত্তিক সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যবস্থা করবে এনটিএ।
চলতি শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে জগন্নাথ ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব পদ্ধতি ভর্তি পরীক্ষা নিতে আগ্রহ প্রকাশ করে। গুচ্ছে ভর্তি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদের একটি গ্রুপ আন্দোলনে নেমেছে। তবে ইউজিসি জানিয়েছে, জগন্নাথ ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের ২২টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় দ্রুত ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ ও ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ক্লাস শুরুর নির্দেশনা দিয়েছে ইউজিসি। ভর্তি পরীক্ষা প্রক্রিয়া সহজ ও শিক্ষার্থীবান্ধব করা এবং এবারের গুচ্ছ ভর্তি যেন অনন্য হয় সে বিষয়ে আয়োজকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইউজিসি সদস্য ও গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় ৮০ ভাগ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় অংশগ্রহণ করছে। আগামী বছর থেকে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ইউনিক পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করা হবে বলে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি সংশ্লিষ্টদের অল্প সময়ে ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ ও ক্লাস শুরু করার আহ্বান জানান।
দেশের ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজ এবং বেসরকারি ৭২টি মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ছাড়া এখন গুচ্ছ পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ পায়। গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তিতে দীর্ঘসূত্রতার নানা অভিযোগ রয়েছে। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)- এই তিনটি প্রকৌশল গুচ্ছে শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হচ্ছে। কৃষি ও কৃষিপ্রধান সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একসঙ্গে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়। এগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিস্টিংগুয়েস্ট প্রফেসর ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ সময়ের আলোকে বলেন, কাল বিলম্ব না করে একটিমাত্র সমন্বিত পরীক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নেওয়া প্রয়োজন। একজন শিক্ষার্থীকে সাত জায়গায় গিয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। সিলেটে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে পর দিন আবার খুলনায় গিয়ে বাচ্চাটাকে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। অধ্যাপক কায়কোবাদ বলেন, সবচেয়ে মেধাবীরা মেডিকেলে পড়তে যান। একটি পরীক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেলে ভর্তি করানো সম্ভব হলে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন সম্ভব নয়। ঢাকা মেডিকেলের যদি কোনো সমস্যা না হয়, তা হলে অন্যদের কেন সমস্যা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সচিব ড. ফেরদৌস জামান সময়ের আলোকে বলেন, দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে একটি পরীক্ষায় অংশ নিতে নীতিনির্ধারণী সভা হবে। সেখানে একটি পরীক্ষার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিতে করণীয় ঠিক করা হবে বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী মেধাভিত্তিক সমন্বিত একটিমাত্র পরীক্ষার মাধ্যমে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীরা ভর্তির সুযোগ পায়। দেশের মেডিকেল কলেজগুলোর জন্য একটিমাত্র ভর্তি পরীক্ষায় ভর্তি নেওয়া হচ্ছে।
জাতীয়ভাবে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি সব বিশ্ববিদ্যালয় মেনে নেবে বলে তিনি মনে করেন।
Leave a Reply