
শাহজাহান বিশ্বাস: মানিকগঞ্জের শিবালয়ের যমুনা নদীর চরাঞ্চলসহ তীরবর্তি বিভিন্ন এলাকায় বিগত আওয়ামী হাসিনা সরকার আমলের মাটি খেকো চক্রটি শুধু খোলস বদলিয়ে আবার নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠছে।এসব আওয়ামী প্রেতাত্মারা স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় পদ্মা-যমুনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে কাটার মেশিন ও দেশীয় ড্রেজার বসিয়ে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু মাটি উত্তোলন করে বিক্রির পায়তারা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে আরিচা ঘাটে। এছাড়া শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ থেকে জানা গেছে, মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা, শিবালয়, আরুয়া ইউনিয়ন ও দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের পদ্মা-যমুনা নদী ও চরাঞ্চলের পাশে এবং তীরবর্তি বিভিন্ন পয়েন্টে ড্রেজার ও কাটার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু মাটি কাটার ব্যাপক প্রস্তুুতি নিচ্ছে অবৈধ বালু মাটি ব্যবসায়ীরা।
মাটি খেঁকো চক্রটি তেওতা ইউনিয়নের যমুনা নদীতে কাটার বসিয়ে বালু মাটি উত্তোলনের প্রস্তুুতি নিলে নিয়ালপুর এলাকায় নদীর তীরে কাটারটি আটকিয়ে রাখে স্থানীয়রা।
এদিকে ঘিওরের কালিগঙ্গা নদীর তীরে ঘিওর কলেজ ও ব্রীজ সংলগ্ন, শ্রীধরনগর, বাসুদেববাড়ী, বেগুন নারচি এবং তরা ব্রীজ ও জাবরা এলাকায় কতিপয় সন্ত্রাসী, সমাজবিরোধী ব্যাক্তিরা অবৈভাবে নদী থেকে বালু মাটি উত্তোলন করে অন্যত্র বিক্রির লক্ষ্যে কাটার মেশিন,বলগেট ও ড্রেজার ইত্যাদি যাবতীয় সরঞ্জাম নদীর তীরবর্তি বিভিন্ন পয়েন্টে স্থাপন করছে। ইতিমধ্যে অনেকেই রাজনৈতিক খোলস পাল্টিয়ে নদীতে ড্রেজার বসিয়ে দিন-রাত মাটি কেটে বিক্রি শুরু করেছে। এরা বিভিন্ন সরকারি অফিস ও কর্মকর্তাদের দোহায় দিয়ে মাটি বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
একটি গোষ্ঠিকে লাভবান করার অসৎ উদ্দেশ্যে অব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গণবিরোধী ও নামমাত্র কথিত বালু মহল ইজারা দেয় বিগত সরকারের দোসর অসাধু কর্মকর্তারা। যে কারণে তারা ইজারাকৃত বালু মহলের নির্দিষ্ট সীমানা প্রকাশ করেনি। ফলে ইজারা চুক্তির বাইরে গিয়েও মাটি কাটার রামরাজত্ব কায়েম করেছিল চক্রটি। তারাই এবার নতুন তারাই এজেন্টের মাধ্যমে একই কায়দায় পদ্মা-যমুনা থেকে বালু মাটি উত্তোলন করে বিক্রির পায়তারা করছে।
খোঁজ নিয়ে বিগত দিনে দেখা গেছে, নদী থেকে মাটি কাটার কারণেই নদী তীরের বহু বসতবাড়ি, ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ফসলি জমি-জমা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অনেক পরিবার নি:স্ব হলেও কথা বলার সাহস ছিলনা। কেউ এর প্রতিবাদ করলে মাটি খেকোদের হাতে হয়রানি ও নিরযাতনের শিকার হতে হয়েছে।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার অভ্যুথানের পর সারাদেশেই একটা পরিবর্তন এসে নির্যাতিত সাধারণ মানুষের মাঝে সার্বিক বিষয়ে আশাবাদের সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিগত স্বৈরাচার সরকারের সন্ত্রাসী অসাধু চক্রের পক্ষে তথাকথিত ইজারাকৃত বালু মহল নতুন অসাধু চক্র পরিচালনা করার পায়তারা করছে।বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুথানের মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে, পরিবেশের ভারসাম্য, রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষার্থে, জনসাধারণের স্বার্থ ও চেতনা পরিপন্থি এবং গণবিরোধী কথিত এ বালু মহল ইজারা বন্ধের জোর দাবী জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগীদের পক্ষে স্থানীয় এস,এম আব্বাস বলেন, বিগত স্বৈরাচার সরকারের দোসর অবৈধ মাটি ব্যবসায়ী একটি চক্র ও সন্ত্রাসী বাহীনি নামে মাত্র ইজারা নিয়ে নদীর মাঝে যত্র-তত্র কাটার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।ওই চক্রটিই এবার এজেন্টের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু মাটি কেটে বিক্রির পায়তারা করছে।গতবার তেওতা ইউনিয়নের আলোকদিয়া চরের অধিকাংশ এলাকা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভিটে-মাটি হারা হয়েছে অনেক পরিবার। তাই কথিত এ বালু মহল ইজারা বাতিল করে বালু মাটি কাটা বন্ধের জোর দাবী জানিয়েছেন তিনি।
এ ব্যাপারে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, এবার নদীতে অবৈধভাবে মাটি কাটার কোন সুযোগ নাই। যদি কেউ কাটে তার বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply