
অনলাইন ডেস্ক: চীনের মধ্যস্থতায় বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীনের একটি ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগের আওতায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করার কাজ চলমান রয়েছে। প্রত্যাবাসন শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার সুবিধাজনক একটি উপযুক্ত ও নির্দিষ্টকাল খুঁজে বের করার কাজ চলছে এবং শিগগিরই তা শুরু হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র সেহেলি সাবরীন বৃহস্পতিবার এমন মন্তব্য করেন।
চীনের দূত নীরবে ঢাকা ঘুরে গেলেন। বলা হচ্ছে তিনি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা করেছেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে চীনের উদ্যোগেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হচ্ছে কি? জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সেহেলি সাবরীন বলেন, গত ৩০ জুলাই থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত চীনের এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত দেং সিজুন ঢাকা সফর করেন।
সফরকালে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং পররাষ্ট্র সচিব (সিনিয়র সচিব) মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করেন। এই সময়ে বাংলাদেশ চীনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের বিভিন্ন দিক এবং বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীনের ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগে স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও টেকসই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও রাখাইন রাজ্যে টেকসই সহাবস্থানসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। চীনের মধ্যস্থতায় বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীনের একটি ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগের আওতায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করার কাজ চলমান রয়েছে। প্রত্যাবাসন শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার সুবিধাজনক একটি উপযুক্ত ও নির্দিষ্ট কাল খুঁজে বের করার কাজ চলছে এবং শিগগিরই তা শুরু হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন গত বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, উনি (চীনের বিশেষ দূত) চেষ্টা করছে যেন রোহিঙ্গারা তাদের স্বদেশে ফেরত যায়। চীন এ ব্যাপারে যথেষ্ট সাহায্য করছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে অনেক লোক চায় না রোহিঙ্গারা ফেরত যাক। বিশেষ করে অনেক বিদেশি সরকার আমাদের পরামর্শ দেন, রোহিঙ্গারা যেন এই মুহূর্তে না যায়। তাদের বক্তব্য হলো-ওখানে (মিয়ানমার) গেলে ওরা মরে যাবে, ওদের হত্যা করবে। কারণ ওখানে মিলিটারি সরকার। তারা মনে করেন, ওখানে যদি গণতন্ত্র ফিরে না আসে তা হলে ওখানে ওদের পাঠানো ঠিক হবে না। তারা এই ওকালতি করে। কিন্তু আমাদের অগ্রাধিকার হচ্ছে, রোহিঙ্গারা তাদের দেশে যাবে। রোহিঙ্গারাও তাদের দেশে যেতে চায়। মিয়ানমার ওদের নিতে রাজি আছে। মিয়ানমার বলছে, তারা গেলে সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি নিশ্চিত করবেন। কিন্তু আমাদের বাকি মুরব্বিরা (পশ্চিমা বিশ্ব) বলছে, না, আপনারা কেমন করে মিলিটারি সরকারকে বিশ্বাস করেন। আমরা এ দোলাচলে আছি।
Leave a Reply