
শাহজাহান বিশ্বাস: মানিকগঞ্জের শিবালয়ের পাটুরিয়া ঘাটে নোঙ্গর করা ফেরি ডুবির সঠিক কোন কারণ এ্রখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে সঠিক কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছেন মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক। সর্বশেষ ডুবে যাওয়া ফেরিটি এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ফেরিতে থাকা ৯টি যানবাহনের মধ্যে মাত্র ১টি কার্ভাট ভ্যান উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলছে। কেউ বলেছেন ঘন কুয়াশার কারণে পদ্মা নদীর পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে যানবাহন নিয়ে নোঙর করা ফেরি রজনীগন্ধা বাল্বহেডের ধাক্কায় ডুবে গেছে। আবার কেউ বলছেন ডুবোচরের ধাক্কায় তলা ফেটে পানি উঠে আস্তে আস্তে ফেরিটি ডুবে গেছে।
আজ বুধবার সকাল আটটার দিকে পাটুরিয়ার ৫ নম্বর ঘাটের কাছাকাছি থাকা ফেরিটি ডুবতে শুরু করে।
এই বিষয়ে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক রেহেনা আকতার বলেন, ফেরিডুবির ঘটনায় ২০ জন উদ্ধার হয়েছেন। এর মধ্যে ছয়জনকে ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার করেছেন, বাকীরা স্থানীয়দের সহযোগীতা এবং সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হয়েছেন।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক শাহ মোহাম্মদ খালেদ নেওয়াজ বলেন, ঘন কুযাশার কারণে গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টা থেকে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ আছে। এমন অবস্থায় পাটুরিয়ার ৫ নম্বর ঘাটের কাছাকাছি থাকা ফেরি রজনীগন্ধা পদ্মা নদীতে ডুবে যায়। ফেরিতে নয়টি যানবাহন ছিল বলে জানা গেছে। হুমায়ূন কবীর নামের ফেরিটির দ্বিতীয় যন্ত্রচালক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। ফেরী নিখোজ দূশ্য দেখার জন্য নদী পাড়ে শত শত উৎসুক মানুষ ভীড় জমিয়েছে। এদিকে বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপার উদ্ধার অভিযান তদারকি করছেন।
জেলা প্রশাসক রেহেনা আকতার জানিয়েছেন, ফেরি ডুবার সঠিক কারণটি এখন বলা যাচ্ছেনা। বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রের নের্তৃত্বে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে প্রকৃত ঘটনাটি কি হয়েছে।
নৌ-পুলিশ সুপার মুশফিকুর রহমান বলেন, ফেরিতে থাকা লোকজনের তথ্যমতে ফেরিটির নীচে ফেটে যাওয়া অংশ দিয়ে পানি ঢুকে আস্তে আস্তে তলিয়ে যায়। ডুবে যাওয়া ফেরি থেকে ২০জনকে উদ্বার করা হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান এডিসনাল সেক্রেটারি ড.এ কে এম মতিউর রহমান বলেন, উদ্ধারকারি জাহাজ হামজা আসলেও এটি দিয়ে ফেরি উদ্ধার করা সম্ভব নয় কারন এটির ধারণ ক্ষমতা ৫০টন আর ফেরির ওজন ২শ’ ৪০ টন। নারায়নগঞ্জ থেকে রুস্তম রওয়ানা দিয়েছে এটি আসলে হয়তো ফেরিটি উদ্ধার করা সম্ভব হবে।
Leave a Reply