
শাহজাহান বিশ্বাস: রাস্তার উপর অবৈধ মাটি ব্যাবসায়দের পাইপ স্থাপন ও মাটির স্তুপ, সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তায় জমে পানি, যান চলাচলে বিঘ্ন, দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারী ও যানবাহন শ্রমিকদেরকে।
মানিকগঞ্জের শিবালয়ের যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি তোলার কাজে ব্যবহৃত ড্রেজারের মোটা পাইপ রাস্তার উপর দিয়ে নেওয়ায় এবং মাটির স্তুুপে আরিচা -জাফরগঞ্জ রাস্তার নিয়ালপুর অংশে যানচলালে বিঘ্ন ঘটছে। এতে অপ্ল বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। ফলে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এতে স্কুলে শিক্ষার্থীসহ পথচারীদেরকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
শনিবার সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, জনগুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তার উপর দিয়ে মাটি ব্যবসায়ীদের পাইপ এবং মাটির স্তুপের কারণে মাটির স্তুুপের এখানে এসে যাত্রী নামিয়ে দিতে হচ্ছে। অনেক সময় অন্যের সহযোগীতা নিয়ে মাটির স্তুপ পাড়ি দিতে হচ্ছে। এমতাবস্থায় মারাত্মক ঝুকির মধ্যে চালাচল করছেন যানবাহন চালকরা। অনেক সময় রিকশা উল্টে গিয়ে দুর্ঘটনার মতো ঘটনা ঘটছে। চরম অতংকের মধ্য দিয়ে চলাচল করছেন যাত্রীরা।
পাশাপাশি রাস্তার উপর দিয়ে মাটি ব্যবসায়ীদের পাইপ স্থাপন এবং ড্রেন ও নালা না থাকায় একটু বৃষ্টি নামলেই সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। এতে বেগ পেতে হচ্ছে ইজিবাইক, মোটরসাইকেল, সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালকদেরকে। ভোগান্তি থেকে রেহায় পাচ্ছে না রাস্তার আশপাশের স্থানীয় সাধারণ মানুষও। সাস্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান,এ রাস্তায় পানি আর কাদা জমে চলাচলে অনুপোযোগী হয়ে পড়ে। অপরদিকে রাস্তার উপর দিয়ে বালু মাটি ব্যাবসায়ীদের পাইপ বসানোর কারণে রিকশা,সিএনজিসহ সকল ধরনের যানবাহন চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে। সড়কের এমন অবস্থার কারণে যানবাহন চলাচলতো দুরের কথা পায়ে হাটাও অনেক কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

রিকশা চালক আশরাফ হোসেন বলেন, অল্প বৃষ্টি হলেই এ রাস্তায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে কাদাযুক্ত হয়ে পড়ে। এতে যানবহান চলাচলে ভীষন অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। এছাড়া এ রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী পথচারিদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। অনেক রিকশা চালকরা এ রাস্তা দিয়ে চলাচললে অনিহা প্রকাশ করেন। আমরা চাই রাস্তার পাশ দিয়ে পানি নিস্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা হোক।
ইজিবাইক চালক মো. রাকিব বলেন, পানি জমে থাকায় রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। এ সময় ইজিবাইক চালাতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনায় পড়তে হচ্ছে আমাদেকে
মোটরসাইকেল চালক হামিদ আলী বলেন, পানির মধ্য দিয়ে মোটরসাইকেল চালানোর সময় রাস্তার অবস্থা বোঝা যায় না। ফলে দুর্ঘনার আশংকা থাকে। রাস্তার পাশ দিয়ে ড্রেনেজ ব্যাবস্থা করলে আমরা মুক্তি পেতাম। আমাদের চাওয়া দ্রুত ড্রেনেজ ব্যাবস্থা করলে জনসাধারণের দুর্ভোগ কমবে।
স্থানীয় আব্দুল জব্বার বলেন, অল্প বৃষ্টিতেই রাস্তায় পানি জমে যায়। এক বছরের বেশী সময় ধরে রাস্তাটির এ বেহাল দশায় আমাদের চরম ভোগান্তি হচ্ছে। রাস্তার পানি আমাদের বাড়ি-ঘরে প্রবেশ করছে। রাস্তার মাঝে পানি জমে থাকায় যানবাহন শ্রমিক ও পথচারীদেরকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অতি দ্রুত আমাদের এখানে একটি ড্রেন নির্মাণ করা দরকার।
শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাহিদুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান আমাকে জানিয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারকে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।
শিবালয় উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার মোবারক হোসেন বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। ওখানে লোক পাঠিনো হয়েছে। সে এসে রির্পোট করার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
Leave a Reply