
শাহজাহান বিশ্বাস: আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ফেরি সংকটের কারণে বিঘ্ন ঘটছে পারাপারে।দুই ঘাটে শত শত যানবাহন ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। মাত্র চারটি ফেরি মধ্যে তিনটি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার চলছে । ফলে দুই পাড়ে পরে আছে দেড় শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক।আরিচা ঘাটে ঢাকা-আরিচা মহসড়কের উপর পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে ফেরি পারের সিরিয়ালে রাখা হয়েছে।
বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে আরিচা ঘাটের ম্যানেজার আবু আব্দুল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শাহ আলী ফেরিটি মেরামতে থাকার কারণে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
সকালে আসা ট্রাকগুলো বিকাল ৫টাতেও ফেরি পাওয়া যায়নি।দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে এসব যানবাহন শ্রমিকদেরকে। ফেরিঘাট এলাকায় আগত ট্রাকচালকদের জন্য পর্যাপ্ত টয়লেট সুবিধা না থাকায় কষ্ট ভোগ করছেন ঘাটে অবস্থানরতরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা, দিনের পর দিন ট্রাক, বাস, কার, মাইক্রোবাস চালকদের থাকতে হচ্ছে পারের অপেক্ষায়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ট্রাকশ্রমিক, নারী ও শিশুরা। ভাসমান দোকান থেকে অনিরাপদ খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকে।
আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে একটি ফেরি আপডাউনে সময় লাগছে ৪ থেকে ৫ ঘন্টা। এতে পারাপারে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে ছোট গাড়ির যাত্রীদেরকে। আর পণ্যাবাহী ট্রাক পারাপার হতে সময় লাগছে ৭/৮ ঘন্টা করেও ঘাটে এসে অপেক্ষার পরও ফেরির নাগাল পাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ট্রাক চালকরা। এ রকম হয়রানি থেকে রেহায় পেতে উক্ত নৌরুটে আরো ফেরি বাড়ানোর দাবী জানিয়েছেন তারা। তা না হলে আর এ নৌরুট ব্যবহার করবে না বলে জানিয়েছেন ট্রাক চালকরা।
বুধবার সকালে সরজমিনে আরিচা ঘাট ঘুরে দেখা গেছে, আরিচা তিন নং ফেরি ঘাটের পন্টুন এলাকা থেকে শুরু করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের শিবালয় সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত সড়কের উপর পণ্যবাহী ট্রাক দীর্ঘ সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে। এতে এ সড়কে যানবাহন চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে। এছাড়া ফেরি টার্মিনাল এলাকাতেও শত শত পণ্যবাহী ট্রাক ফেরি পারের অপেক্ষায় রয়েছে। ফেরি পার হতে আসা এসব ট্রাকের মধ্যে অনেক ট্রাক ( ২৭ ফেব্রুয়ারী) মঙ্গলবার রাতে আরিচা ঘাটে এসে পৌঁচায় ফেরি পারের জন্য। কিন্তু আজ ( ২৮ ফেব্রুয়ারী ) বুধবার বেলা তিনটাতেও ফেরি পার হতে পারেননি ট্রাক চালকরা।
ফেরি সংকট, যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি এবং ঘাটে বিশৃঙ্খলার জন্যই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ট্রাক চালকরা।এ নৌরুটে আরো ফেরি বাড়ানোর দাবী জানিয়েছেন ট্রাক শ্রমিকরা।
বিআইডব্লিউটিসির আরিচা আঞ্চলিক অফিস সুত্রে জানা গেছে, চারটি ফেরির মধ্যে বীর শ্রেষ্ট রুহুল আমিন, খানজাহান আলী ও বেগম রোকেয়া এই তিনটি ফেরি দিয়ে ফেরি সার্ভিস চালু রাখা হয়েছে। আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে মোট চারটি ফেরি চলাচল করে থাকে। এর মধ্যে শাহ আলী নামের একটি ফেরি ডেক সমস্যার কারণে গত ২৬ ফেব্রুয়ারী থেকে আরিচা ঘাটেই নোঙর করে রাখা হয়েছ। বর্তমানে তিনটি ফেরি চলাচল করছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। দিন যাচ্ছে আর যানবাহন ও যাত্রীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু ফেরির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন যানবাহন শ্রমিকরা। যানবাহনের তুলনায় ফেরি না থাকায় প্রতিদিন চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে যাত্রী এবং যানবাহন শ্রমিকদেরকে। গাড়িগুলো ফেরি পার হতে এসে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয় তাদেরকে।
ট্রাক চালক মো. সজিব মিয়া বলেন, আরিচা ঘাট এলাকায় ট্রাফিক ব্যবস্থা না থাকায় কোন শৃঙ্খলা নেই। ফলে যে যার মতো করে গাড়ি পার্কিং করে রাখছে। বিশেষ করে ফেরি লোড-আনলোডের রাস্তায় গাড়ি এলোমেলোভাবে রাখায় বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছে।আরিচা ঘাটে দিক নির্দেশনা দেওয়ার মতো কোন লোক নেই।যে কারণে ঘাটে ফেরি আসলে এদিক-ওদিক ছুটা-ছুটি করতে হয় গাড়ি চালকদের।এতে নির্ধারিত সময়ে ফেরি পার হতে সমস্যা হচ্ছে।যেমন আমি বুধবার সকালে ফেরি পার হওয়ার জন্য আরিচা ঘাটে আসি।কিন্তু ফেরি কর্তৃপক্ষের গাফলতির কারণে বুধবার বেলা ৪টাতেও ফেরি পার হতে পারিনি।
ট্রাক চালক মো.সম্রাট হোসেন বলেন, আমরা পাটুরিয়া ঘাট হয়ে চলাচল করি। কিন্তু ওই ঘাটে সমস্যা হওয়ায় এ ঘাট হয়ে আসি। ফেরি স্বাল্পতার কারণে এখানেও সমস্যা। আমি বুধবার ভোরে আরিচা ঘাটে আসি। কিন্তু বুধবার বেলা সাড়ে ৪টাতেও ফেরি পার হতে পারিনি। এ নৌরুটে আরো ফেরি বাড়ানোর দরকার বলে তিনি মনে করেন।
ফেরি কর্তৃপক্ষ আরিচা ঘাটের ম্যানেজার আবু আব্দূলাহ বলেন, আরিচা-কাজিরহাট নৌরুট চালু হবার পর, দিন দিন গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসের সংখ্যা বেড়েছে অনেক। কিন্তু যানবাহনের তুলনায় ফেরি কম থাকায় সমস্যা হচ্ছে। পার হতে আসা গাড়িগুলোকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।এ নৌরুটে আরো ফেরি বাড়ানো দরকার বলে তিনি মনে করেন।দুই পাড়ে ১শ’ ৬০টি যানবাহন ফেরি পারারের জন্য অপেক্ষার প্রহর গুণছে।
Leave a Reply