
অনলাইন ডেস্ক: প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশের ক্ল্যারিয়ন ক্লিপারটোন জোন (সিসিজেড) এলাকায় সম্প্রতি ৫ হাজারেরও বেশি নতুন প্রজাতির সন্ধান মিলেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ থেকে মেক্সিকো পর্যন্ত বিস্তৃত ৬০ লাখ বর্গকিলোমটার বিস্তৃত এই অঞ্চলটিতে আসছে বছর থেকেই শুরু হতে যাচ্ছে খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানের তৎপরতা। তাই এসব নতুন প্রাণী প্রজাতি আর কতদিন এ পৃথিবীতে টিকে থাকবে; সেই প্রশ্ন ইতিমধ্যে ওঠা শুরু হয়েছে জোরেশোরে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান বলছে, খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান শুরু হলে স্বাভাবিকভাবেই অস্তিত্বের হুমকিতে পড়বে এসব প্রজাতি।
যুক্তরাজ্যের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম লন্ডনের গভীর সমুদ্রের বাস্তুসংস্থান বিশেষজ্ঞ ম্যুরিয়েল র্যাবোনের নেতৃত্বে একটি দল সম্প্রতি এ সম্পর্কিত একটি গবেষণা প্রবন্ধ প্রস্তুত করেছেন। জীববিজ্ঞান সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক সাময়িকী কারেন্ট বায়োলজিতে সেই গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিতও হয়েছে। ম্যুরিয়েল র্যাবোন দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, গত কয়েক বছরে সিসিজেডে ৫ হাজার ৫৭৮ প্রজাতির প্রাণী শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরাÑযেগুলোর ৯২ শতাংশই নতুন করে পাওয়া। এমনকি অনেক প্রজাতির নামকরণও এখনও করা হয়নি। ‘এখন পর্যন্ত এই প্রজাতিগুলোর মধ্যে মাত্র ৪৩৮টির নামকরণ হয়েছে। বাকি ৫ হাজার ১৪২টি প্রাণীর বৈজ্ঞানিক নাম এখনও দেওয়া হয়নি। বিজ্ঞানীরা এসব প্রজাতিকে ইনফর্মাল বিভিন্ন নামে অভিহিত করে থাকেন,’ আলজাজিরাকে বলছিলেন র্যাবোন। তিনি আরও বলেন, ‘এমনকি নতুন এই প্রজাতির অনেকগুলোর পূর্ণাঙ্গ বিবরণও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এসব প্রজাতি কোন বর্গের তা আমরা বলতে পারব কিন্তু প্রজাতিগুলোর বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক বিবরণ এখনও আমাদের অজানা।’
সমুদ্রের তলদেশ গবেষণা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল সি বেড অথরিটির উদ্যোগে এক দশক আগে ট্যাক্সোনমিক পদ্ধতিতে জরিপ চালানোর সময় প্রথম এসব প্রাণী সম্পর্কে জানতে পারে মানুষ। অধিকাংশ প্রজাতিই বসবাস করে সমুদ্রের তলদেশে, যেখানে সূর্যের আলোও ঠিকমতো পৌঁছাতে পারে না। প্রসঙ্গত, সমুদ্রের ২০০ ফুট গভীর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে সূর্যালোক। আলজাজিরাকে ম্যুরিয়েল র্যাবোন বলেন, বিশে^র আর কোনো সমুদ্রের নির্দিষ্ট এলাকায় এত সংখ্যক প্রজাতির বসবাসের নজীর নেই।
হাজার হাজার প্রজাতির প্রাণীর মতো খনিজ সম্পদেরও এক বিশাল ভাণ্ডার প্রশান্ত মহাসাগরের ক্ল্যারিয়ন ক্লিপারটোন জোন। গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্য বলছেÑনিকেল, ম্যাঙ্গানিজ, তামা, দস্তা ও কোবাল্টসহ বিভিন্ন খনিজের সমৃদ্ধ মজুদ রয়েছে সিসিজেডের তলদেশের গভীরে। চলতি জুলাই মাস থেকেই ক্ল্যারিয়ন ক্লিপারটোন জোনে খননকাজ চালাতে ইচ্ছুক কোম্পানিগুলোর আবেদনপত্র গ্রহণ করা শুরু করবে ইন্টারন্যাশনাল সি বেড অথরিটি। তারপর সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে খনন কাজ। ক্ল্যারিয়ন ক্লিপারটন জোনে খননকাজ চালাতে ইচ্ছুক কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান দ্য মেটাল কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহী গেরার্ড ব্যারন। তিনিও স্বীকার করেছেন, খনিজ অনুসন্ধানে ক্ষতি হবে প্রাণী প্রজাতিগুলোর। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসিকে গেরার্ড ব্যারন বলেন, ‘সমুদ্রের তলদেশে খননকাজ চালানো হলো স্বাভাবিকভাবেই সেখানকার বাস্তুসংস্থানের ওপর প্রভাব পড়বে-এটা এড়ানোর কোনো উপায় নেই। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সেই প্রভাবের মাত্রা কতখানি হবে। আমাদের নিশ্চয়ই এমনভাবে খননকাজ চালানো উচিত হবে না, যা প্রজাতিগুলোর অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ঠেলে দেয়। যে পদ্ধতিতে খনন করলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সর্বনিম্নে রাখা যায়, সেই পদ্ধতিই অনুসরণ করতে হবে আমাদের।’
Leave a Reply