
শাহজাহান বিশ্বাস: বিশ্ব শিক্ষক দিবসে মানিকগঞ্জের শিবালয় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমানকে সম্মাননা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।গত সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তার হাতে সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। হাবিবুর রহমানসহ সারাদেশের মোট ১০২ শিক্ষককে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।সম্মাননা হিসেবে প্রত্যেক শিক্ষককে ২ লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়।
হাবিবুর রহমানের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তার জন্ম মাগুরা জেলায়। চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। তার বাবা আবুল কালাম ও মা ফাতেমা খাতুন। তার দুই মেয়ে ও এক ছেলে সন্তান রয়েছে। তার স্ত্রী ঢাকার একটি কলেজের ইংরেজী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এমফিল গবেষনায় যুক্ত আছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন হাবিবুর রহমান। তিনি জানান, ৩৪তম বিসিএস থেকে নন-ক্যাডার হিসেবে ২০১৭ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর শিবালয় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (সামাজিক বিজ্ঞান) পদে যোগ দেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি গবেষণার ক্ষেত্রেও সক্রিয়। গণতান্ত্রিক রূপান্তর, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও নির্বাচনী ব্যবস্থা তার গবেষণার প্রধান বিষয়। তার গবেষণামূলক প্রবন্ধ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে বলেও তিনি জানান।
আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সম্মেলনেও তার অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০১৪ সালে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ান ইয়ং ওয়ার্ল্ড’ সম্মেলনে বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন তিনি। সেখানে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা বহনকারী প্রতিনিধি হিসেবে শিক্ষা, নেতৃত্ব, উন্নয়ন ও সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পান।
হাবিবুর রহমান বলেন, ‘একজন শিক্ষক শুধু পাঠদান করেন না, একটি প্রজন্মের চিন্তা, মূল্যবোধ ও ভবিষ্যৎ নির্মাণ করেন। শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা, নৈতিকতা ও মানবিক গুণাবলিতে সমৃদ্ধ করে দেশ ও সমাজের জন্য যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁর লক্ষ্য।’
ভবিষ্যতে ইউরোপের কোন দেশে পিএইচডি করার ইচ্ছা আছে তার। এর জন্য সকলের দোয়া কামনা করেন তিনি।
হাবিবুর রহমানের অর্জনে মানিকগঞ্জ জেলার প্রাইমারি শাখার শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক মো. আব্দুল খালেক বলেন, যে কোন পুরস্কার বা প্রাপ্তি পেশার জন্য উৎসাহজনক ও গৌরবের।এসব পুরস্কার নিজেকে আরো দায়িত্বশীল ও পরিপক্ক হিসেবে গড়ে তোলার কাজে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।
Leave a Reply