1. id69_178fc3@local.host : id69_178fc3 :
  2. shahjahanbiswas74@gmail.com : Shahjahan Biswas : Shahjahan Biswas
  3. ssexpressit@gmail.com : sonarbanglanews :
  4. wp2_de0746@wp2shell.invalid : wp2_de0746 :
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন

বিদেশিদের ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ নেই, নৌকা উজান ঠেলে এগিয়ে যাবে

  • সর্বশেষ আপডেট : শনিবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
  • ৩১৫ বার পড়েছেন

অনলাইন ডেস্ক: আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আসন্না জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আন্দোলন, ভিসানীতি, নিষেধাজ্ঞা বা বিদেশিদের ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ নেই। উজান ঠেলে নৌকা এগিয়ে যাবে। নৌকা সারাজীবন উজান ঠেলেই এগিয়েছে। উজান ঠেলেই এগিয়ে যাবে। ঝড় ঝঞ্ঝা পারি দিয়েই নৌকা আজ তীরে ঠেকে জনগণের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, অনেকে আন্দোলনের কথা বলে। আবার ভিসানীতি বা নিষেধাজ্ঞার ভয় দেখায়। আমার স্পষ্ট কথা, দেশ আমাদের, দেশ আমরা স্বাধীন করেছি। এসব ভয় আমাদের দেখিয়ে লাভ নেই। বাংলাদেশের মানুষ জানে অধিকার আদায় করতে।

শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পুরোনো বাণিজ্যমেলা মাঠে ঢাকায় দেশের প্রথম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিপিপি প্রকল্প (কাওলা-ফার্মগেট) অংশের উদ্বোধন পরবর্তী সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ঢাকাবাসীর জন্য নতুন উপহার হিসেবে দিলাম বরে জানান প্রধানমন্ত্রী। এ সুধী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এসময় প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন সেতু সচিব মো. মনজুর হোসেন ও ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক এ এইচ এম এস আকতার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস ও আতিকুল ইসলাম, ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আরাফাত এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রওশন আরা মান্নান।

সরকারের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন, আজকের বাংলাদেশের এত উন্নয়ন কেন হয়েছে? ২০০৯ সাল থেকে যে গণতন্ত্র এবং মানুষের ভোটের অধিকার আমরা নিশ্চিত করে জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এসে একটা গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা পরিবেশ রাখতে পেরেছি। তার কারণেই আজকে বাংলাদেশের এই উন্নয়ন।

বিএনপি জামায়াতেকে ইঙ্গিত করি তিনি বলেন, অনেকেই নাকি গণতন্ত্র চোখে দেখেনা, গণতন্ত্র নাকি উদ্ধার করবে। যাদের জন্মই হচ্ছে অগণতান্ত্রিক ভাবে সংবিধান লংঘন করে, উচ্চ আদালত যাদের ক্ষমতা অবৈধ ঘোষণা করেছে। তাদের হাতে গড়া দল কি গণতন্ত্র দেবে? তারা তো গণতন্ত্র দিতে জানেনা। এখন আবার অনেকে আন্দোলনের সময় অনেক কথা বলে।

সরকারবিরোধী আন্দোলন সংগ্রাম দেখে ভয়ে ঘাবড়ে যাওয়া নেতাদের অভয় দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, মাঝে মধ্যে আন্দোলন-সংগ্রাম দেখে অনেকেই একটু ঘাবড়ে যান। তারপর স্যাংশন, ভিসা স্যাংশন ইত্যাদি ইত্যাদি। আমার স্পষ্ট কথা, এই মাটি আমাদের, আমরা দেশ স্বাধীন করেছি জাতির পিতার নেতৃত্বে। এই সমস্ত ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। বাংলাদেশের মানুষ জানে অধিকার আদায় করতে। ভয়কে জয় করে বাংলাদেশের জনগণ তার উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাবে। তবে বাংলাদেশ তো ছয় ঋতুর দেশ আমরা তো দেখি কখনো বর্ষ, কখনো ঝড়, কখনো জলচ্ছাস, কখনো রোদুজ্জাল বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কিছু দেখার আমাদের অভিজ্ঞতা আছে। তাই আজকে যারা আন্দোলনের নামে রোজই আমাদের ক্ষমতা থেকে ফেলে দিচ্ছে। আমি এখানে যারা আছেন তাদের সহ সবার উদ্দেশ্যে কবির ভাষায় বলবো- মেঘ দেখে করিসনা ভয়, আড়ালে তার সূর্য হাসে। হারা শশীর হারা হাসি অন্ধকারেই ফিরে আসে। মেঘের ঘনঘটা আমরা দেখি তারপরে তো আবার সূর্য হাঁসে। কাজে ওই ভয় দেখিয়ে কোন লাভ নেই। ভয় জয় করে বাংলাদেশের জনগণ উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপ্রতীরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাবে।

আওয়ামী লীগের অর্জনের কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নৌকা মার্ক স্বাধীনতা দিয়েছে, অর্থনৈতিক উন্নতি দিয়েছে, নৌকা মার্কা ডিজিটাল বাংলাদেশ দিয়েছে, নৌকা মার্কায় স্মর্ট বাংলাদেশ দেবে। আমাদের জনগণকে প্রযুক্তিজ্ঞান সম্পন্ন স্মার্ট জনশক্তি আমরা গড়ে তুলবো। আমাদের সরকার স্মর্ট সরকার হবে। আমাদের অর্থনীতি স্মার্ট হবে। আমাদের সমাজ স্মার্ট সমাজ হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে স্মর্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলে এদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে উঠবে। আর সেভাই আমসরা কাজ করে যাচ্ছি। আত্ম বিশ্বাস রেখে জনগণের কল্যাণে কাজ করলে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করা সম্ভব সেটা আমরা প্রমাণ করে দিয়েছি। যার জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দরকার। অগ্নীসন্ত্রাস, খুন, হত্যা অনেক কিছুই আমরা দেখেছি। সেগুলোর উত্তরণ ঘিটিয়ে বাংলাদেশ ইনশাল্লাহ এগিয়ে যাবে।

‘৭৫ থেকে ৯৬ ও ২০০১ থেকে ২০০৮ মোট এই সময়ে যারা ক্ষমতায় ছিল তারা কি দিয়েছে বাংলাদেশের মানুষকে এমন প্রশ্ন রেখে শেখ হাসিনা বলেন, তারা কিছুই দিতে পারেনি। তারা শুধু লুট করেছে নিজেদের আখের গুছিয়েছে। আওয়ামী লীগ ২০০৮ নির্বাচিত হয়েছিল। বিএনপি মাত্র ৩০টি আসন পেয়েছিল। আওয়ামী লীগ ২০০৯ থেকে ২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে যেভাবে কাজ করেছি। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন কালেই বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। আর্তসামাজিক উন্নয়ন করে বাংলাদেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমরা উন্নয়ন করেছি।

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৭ সময়কালে দেশ ছিল অন্ধকারে। এখন আর সেটা নেই। বাংলাদেশ আলোর পথে যাত্রা শুরু করেছে। আমরা যে ওয়াদা দিয়েছি, সেটা একের পর এক পূরণ করে যাচ্ছি। কবি সুকান্তের ভাষায় ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার। ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে আজ একটা সাময়িক সমস্যা চলছে। আমাদের ওপর অর্থনৈতিক ধাক্কা এসেছে। এজন্য আমি বলেছি, দেশে কোনো অনাবাদি জমি থাকবে না। নিজের ফসল নিজে ফলাবো। নিজের খাবার নিজে উৎপাদন করে খাবো। কারও কাছে হাত পাতবো না। জাতির পিতা বলতেন, ভিক্ষুকের জাতির উন্নতি হয় না।

সরকারপ্রধান আরও বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণ করে বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছি, বাংলাদেশকে দাবায়ে রাখা যায় না। মেট্রোরেল, উড়াল সড়ক উদ্বোধন করলাম। এগুলো সবই জনগণের স্বার্থে। সারাদেশে যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবনীয় উন্নতি করেছি। আমরা চাই, আমাদের দেশ আরও এগিয়ে যাবে। জাতির পিতার এই স্বাধীন দেশের একটি মানুষও গৃহহীন ও ভূমিহীন থাকবে না। তাদের ঘরবাড়ি করে দিচ্ছি। বেকারদের কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণ দিয়ে কাজের সুযোগ করে দিচ্ছি। সরকারি চাকুরেদের মতো সবার জন্য সর্বজনীন পেনশন চালু করেছি। শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যতও যেন আলোকিত হয়, আমরা সে উদ্যোগই নিচ্ছি।

দেশের প্রথম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বা উড়াল সড়ক উদ্বোধন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, আজ আমি আপনাদের আরেকটি নতুন উপহার দিচ্ছি। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। ঢাকা শহরে যানজট নিরসনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে এ উড়াল সড়ক। সময় বাঁচবে। মানুষের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে। মানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্খা পূরণ হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের নান্দনিক ভিলেজ করে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে দেশের প্রথম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন পরবর্তী সুধী সমাবেশ জনসমুদ্রে রুপ নেয়। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এই সুধিসমাবেশে যোগ দেন। দুপুরের মধ্যে পুরনো বণিজ্য মেলার মাঠ ও এর আশপাশের এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকা থেকে আসা নেতাকর্মীরা বিভিন্ন রঙের গেঞ্জি ও টুপি পড়ে সমাবেশ অংশ নেওয়ার কারণে পুরো সমাবেশস্থল ও এর আশপাশের এলাকা বর্ণিল রং ধারণ করে। মাঝে বৃষ্টির বাগড়াও দমাতে পারেনি উৎসুক নেতাকর্মীদের। এদিকে গোলাপী টুপি পড়ে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে প্রায় লাখ লাখ নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। সমাবেশকে উৎসবে রুপ দিতে কেউ কেউ আবার ব্যন্ডপার্টি ও বাদ্যযন্ত্রসহ মিছিল নিয়েও আসেন। ১ সেপ্টেম্বর ছাত্রলীগের উদ্যোগে আয়োজিত বৃহৎ ছাত্র সমাবেশের পরদিন সুধী সমাবেশেও এমন বড় জমায়েত করে নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নিজেদের জনসপৃক্ততার বার্তা তুলে ধরার চেষ্টা করেছে।

এর আগে বিকেল সাড়ে ৩টায় প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দর প্রান্তের কাওলা অংশে নামফলক উন্মোচনের মাধ্যমে বহুল কাঙ্ক্ষিত দেশের প্রথম ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন করেন। পরে তিনি এ প্রকল্প সম্পর্কে সচিবের দেওয়া প্রেজেন্টেশন দেখেন ও ব্রিফ শোনেন। এরপর কাওলা প্রান্ত থেকে যাত্রা করে নিজ হাতে টোল দিয়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে উঠেন। প্রায় ১১ কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়ে ১৪ মিনিটে পার হয়ে তিনি আগারগাঁওয়ে সুধী সমাবেশে পৌঁছান। সেখানে রাখা উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন এবং পরে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন শেখ হাসিনা।

খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন :