
অনলাইন ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পক্রিয়া দেখতে চায়। যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য বাংলাদেশে শান্তিপূর্ন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে সমর্থন করা। নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যু বাংলাদেশের জনগণের অভ্যন্তরীণ বিষয়, এখানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা নাই, কারণ যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ নেয় না। আশা করি, রাজনৈতিক দলগুলো আসন্ন নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশের জগনকে সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে দিবেন। বাংলাদেশ সফর শেষে ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার আগে মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি আজরা জেয়া একটি টেলিভিশন ও একটি বার্তা সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমন কথা বলেন।
আন্ডার সেক্রেটারি আজরা জেয়ার নেতৃত্বে মার্কিন একটি প্রতিনিধিদল ভারত হয়ে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ সফরে আসেন। প্রতিনিধিদলে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু এবং মার্কিণ সাহায্য সংস্থা ইউএসএআইডির এশিয়া ব্যুরোর উপ সহকারি প্রশাসক অঞ্জলি কৌর ছিলেন। সফর শেষে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্য রাতে প্রতিনিধিদলটি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেছেন।
ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার পর এক টুইট বার্তায় আন্ডার সেক্রেটারি আজরা জেয়া বলেন, দেখা হবে, ঢাকা! একটি ফলপ্রসূ ও উৎসাহব্যাঞ্জক সফরের জন্য বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তাবৃন্দ, সুশীল সমাজ, রাষ্ট্রদূত হাস এবং আমাদের নিবেদিত ঢাকাস্থ দূতাবাস টিমকে ধন্যবাদ। অবাধ ও সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক নির্বাচনের জন্য জোরালো পদক্ষেপ, শ্রম অধিকার এবং রোহিঙ্গাদের সহায়তাসহ বাংলাদেশ অংশীদারদের সাথে সমন্বয় অব্যাহত রাখতে আমরা উন্মুখ।
মার্কিন প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফরে আসন্ন নির্বাচন সর্বাধিক গুরুত্ব পেয়েছে। এর বাইরে গণতন্ত্র, মানবিধকার, গণমাধ্যমে স্বাধীনতা, সংগঠন করার স্বাধীনতা, শ্রমিকের অধিকার এবং শ্রমিক নেতা শহিদুল ইসলাম হত্যার বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, ঢাকার পক্ষ থেকে র্যাবের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান করা হলে সাম্প্রতিক সময়ে র্যাবের কর্মকাণ্ডে সন্তোষ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র জানায় যে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে যথাযথ প্রক্রিয়া মানতে হবে।
র্যাবের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে আন্ডার সেক্রেটারি আজরা জেয়া বলেন, তাদের অতীত কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। এই সংস্থাটির যথাযথ সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে।
আজরা জেয়া আরো বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মানব পাচার প্রতিরোধ, নাগরিক সমাজের স্বাধীনতা, মানবাধিকার, বাক স্বাধীনতা, সংগঠন করার স্বাধীনতা এবং বৃহৎ পরিসরে জনগনের গণতান্ত্রিক পক্রিয়ায় অংশগ্রহণ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বৈঠকে আলাপ করেছি।
বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ভবিষ্যত নির্ভর করছে শক্তিশালি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। বিগত ৫০ বছরের মত আগামী ৫০ বছরেও যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে জলবায়ু, অর্থনীতি, মানবিক সহায়তা এবং নিরাপত্তাসহ দ্বিপক্ষীয় ইস্যুতে শক্তিশালী সম্পর্ক রাখতে চায়।
Leave a Reply