1. id69_178fc3@local.host : id69_178fc3 :
  2. shahjahanbiswas74@gmail.com : Shahjahan Biswas : Shahjahan Biswas
  3. ssexpressit@gmail.com : sonarbanglanews :
  4. wp2_de0746@wp2shell.invalid : wp2_de0746 :
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৫২ পূর্বাহ্ন

পশ্চিমবঙ্গের তিস্তা হাইডেল পরিকল্পনায় বাংলাদেশের ঝুঁকি বাড়ল

  • সর্বশেষ আপডেট : সোমবার, ১৩ মার্চ, ২০২৩
  • ২৬২ বার পড়েছেন

অনলাইন ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ সরকার দার্জিলিং পাহাড়ে তিনটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়ল ঢাকা। তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির জন্য এক দশকেরও বেশি সময় অপেক্ষা করে কোনো সমাধান এখনো হয়নি। এরই মধ্যে এ খবর বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের। দি টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে এ সব তথ্য জানানো হয়।

পরিকল্পিত তিনটি দার্জিলিং প্রকল্পের মধ্যে দুটি তিস্তায় পানির পরিমাণ কমিয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে ডিসেম্বর-এপ্রিলে যখন বাংলাদেশে সেচের পানির চাহিদা বেড়ে যায় তখন সেচের জন্য প্রয়োজনীয় পানির চরম অভাব দেখা দিবে।

একটি সূত্র জানিয়েছে, পশ্চিম বঙ্গ সরকার তিস্তা লো ড্যাম প্রজেক্ট (TLDP) ১ এবং ২-এর উপর একটি বিশদ প্রকল্প প্রতিবেদন (ডিপিআর) তৈরির জন্য নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যার সম্মিলিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৭১ মেগাওয়াট। বালাসন এবং রংভাং নদীর উপর বালাসন হাইড্রো ইলেকট্রিক প্রজেক্ট (৩৮ মেগাওয়াট) এর ডিপিআরের জন্য অনুরূপ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানায় সূত্রটি।

সূত্রটি আরও জানায়, অন্যান্য ১০টি ছোট জলবিদ্যুৎ প্রকল্প সম্পর্কিত ডিপিআর প্রস্তুত করার জন্যও নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পগুলো বাস্তবসম্মত কিনা তা দেখা দরকার। তিস্তার পানিতে ঢাকার অধিকার আছে। তিস্তা চুক্তিটি সেপ্টেম্বর ২০১১ সালে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা ছিল কিন্তু বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বিরোধিতার কারণে স্থগিত হয়ে যায়।

এ জন্য মমতা যুক্তিও দেখিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, উভয় দেশের সেচের চাহিদা মেটানোর মতো তিস্তায় পর্যাপ্ত পানি নেই। গত কয়েক বছরে তিস্তা চুক্তি শেষ করতে দেরি হওয়ায় ঢাকা বারবার দিল্লিকে তার সমস্যার কথা জানিয়েছিল। কিন্তু দিল্লি ও কলকাতার সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি।

তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পের অধীনে দুটি খাল নির্মাণের বেঙ্গল সেচ বিভাগের পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসার পর ঢাকার সমস্যা আরও গভীর হয়। বাংলাদেশের সূত্র জানায়, চলতি বছরের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরে গেলে বিষয়টি দুই দেশের মধ্যে আলোচনায় আসতে পারে। এই বছরের শেষের দিকে বা আগামী বছরের জানুয়ারির শুরুতে বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনের কথা রয়েছে। তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থতাকে ভারতপন্থী বলে মনে করবে বাংলাদেশের মানুষ। এতে বাংলাদেশ সরকারের সমস্যা আরও বড় হবে।

তিস্তার পানির কম পরিমাণ কমে গেছে, নদীতে উর্বর পলির প্রবাহ হ্রাস পেয়েছে। ফলে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে খরার কারণে বিশাল পরিমাণ জমি চাষের জন্য অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে।

ঢাকার একটি সূত্র জানায়, আমরা তিস্তা ইস্যুকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ঝুলিয়ে রাখতে পারি না। কারণ এটি পানির উপর আমাদের ন্যায্য দাবির বিষয়।

ভারতীয় নদী বিশেষজ্ঞদের দাবি, তিস্তাকে সেচ ও জ্বালানি উৎপাদনের জন্য ব্যবহারের উপর অত্যধিক গুরুত্ব দিলে নদীটি ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। ভারতীয় সেচের চাহিদা মেটানোর জন্য দুটি খাল সম্পূর্ণ করার ন্যায্যতাকে অতিরঞ্জিত করা হয়েছে দাবি করে একজন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, তিস্তার পানি এই অঞ্চলের বিদ্যমান সেচ প্রকল্পের সক্ষমতা পূরণের জন্য পর্যাপ্ত নয়।

সর্বশেষ, প্রতিটি রাজ্যের জন্য  কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে জলবিদ্যুৎ ক্রয়ের বাধ্যবাধকতা এবং সবুজ-বিদ্যুৎ-উৎপাদনের আদেশ রয়েছে। একজন নদী বিশেষজ্ঞ অবশ্য জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, বিপর্যয়ের পরিপ্রেক্ষিতে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোকে ‘সবুজ’ বলা যেতে পারে কিনা। উত্তরে তিনি বলেন- এটি ‘দুঃখজনক’ যে রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় সংস্থা (এনএইচপিসি) যেটি সিকিমে জলবিদ্যুৎ তৈরির জন্য তিস্তার জল ব্যবহার করছে, তারা একে অপরের সাথে যথাযথ পরামর্শ ছাড়াই তাদের নিজস্ব হাইডেল প্রকল্পগুলো নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। সমস্যা হল, নদীকে কীভাবে বাঁচানো যায় তা নিয়ে খুব কম আলোচনা হয়।

খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন :