1. id69_178fc3@local.host : id69_178fc3 :
  2. shahjahanbiswas74@gmail.com : Shahjahan Biswas : Shahjahan Biswas
  3. ssexpressit@gmail.com : sonarbanglanews :
  4. wp2_de0746@wp2shell.invalid : wp2_de0746 :
শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন

নৌকায় ভোট দিতে তরুণ সমাজের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

  • সর্বশেষ আপডেট : শনিবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ২৩০ বার পড়েছেন

অনলাইন ডেস্ক: আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতি শুধুই জনগণের কল্যাণের জন্য, কিন্তু বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতি হচ্ছে মানুষকে পুড়িয়ে মারার রাজনীতি। আগামী ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে প্রথমবার যারা ভোট দিতে যাবেন তাদের জীবনের প্রথম ভোটটি যেন ব্যর্থ না হয় সে জন্য তার দলের নির্বাচনি প্রতীক নৌকায় ভোট দেওয়ার জন্য তরুণ সমাজের প্রতি এবং দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে নৌকায় ভোট প্রদানের জন্য দেশবাসীর প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

গতকাল বরিশাল বিভাগীয় সদরের ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু উদ্যানে নির্বাচনি জনসভায় তিনি বলেন, আমাদের রাজনীতি মানুষের কল্যাণের জন্য, আর ওদের রাজনীতি মানুষ পোড়ানোতে। তাদের কি মানুষ চায়? মানুষ তাদের চায় না।

শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা গত ২০ ডিসেম্বর সিলেট থেকে শুরু হওয়া  আনুষ্ঠানিক নির্বাচনি প্রচার সমাবেশ এবং ২৬ ডিসেম্বর রংপুর জেলার তারাগঞ্জ, মিঠাপুকুর ও পীরগঞ্জ উপজেলায় অন্যান্য নির্বাচনি সমাবেশের মতো এদিনও মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি ধিক্কার জানাই ওই বিএনপি-জামায়াতকে। বিএনপি হচ্ছে একটি সন্ত্রাসী দল। এই সন্ত্রাসী দলের কোনো রাজনীতি করার অধিকার বাংলাদেশে নেই। কারণ তারা মানুষ পোড়ায়। মানুষ হত্যা করে। আমাদের রাজনীতি মানুষের কল্যাণে আর ওদের রাজনীতি মানুষ পোড়ানোতে। তাদের কি মানুষ চায়? মানুষ তাদের চায় না। আর তাদের দোসর হচ্ছে ১৯৭১-এর যুদ্ধাপরাধীরা, যারা গণহত্যা করেছে, লুটপাট করেছে, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগ করেছে, মানুষের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন করেছে। যুদ্ধাপরাধের দায়ে যাদের  বিচার হয়েছে, শাস্তি হয়েছে, সেই জামায়াত। কাজেই খুনি, মানি লন্ডারিংকারী, দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাকারবারি, এতিমের অর্থ আত্মসাৎকারীদের সঙ্গে জুটেছে যুদ্ধাপরাধীদের দল। এরা নির্বাচন চায় না, নির্বাচন বানচাল করতে চায়।

তিনি বলেন, আপনাদের কাছে আহ্বান আপনারা ৭ তারিখে সকাল সকাল সবাই ভোটকেন্দ্রে যাবেন।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন মার্কাটা কী? জনতা চিৎকার করে বলে ওঠে ‘নৌকা’। তিনি বলেন, এই নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েই মানুষ স্বাধীনতা পেয়েছে। এই নৌকায় ভোট দিয়েই আজকে দারিদ্র্য বিমোচন হয়েছে। এই নৌকায় ভোট দিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ হয়েছে। এই নৌকায় ভোট দিলে স্মার্ট বাংলাদেশ হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তা ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে দক্ষিণাঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে সেটা মাথায় রেখে ‘ডেল্টা প্ল্যান-২১০০’ অর্থাৎ ২১০০ সাল পর্যন্ত উন্নয়নের পরিকল্পনা আমরা করে দিয়েছি। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। এটা একমাত্র আওয়ামী লীগই করতে পারবে। আর নৌকা মার্কায় ভোট দিলে তারাই পারবে আর কেউ পারবে না। অগ্নিসন্ত্রাসী বা লুটেরা বা এতিমের অর্থ আত্মসাৎকারীরা কেউ পারবে না-সে কথাটা আপনাদের মনে রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় বরিশাল বিভাগের নৌকার প্রার্থীদের সঙ্গে জনগণের পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাদের প্রত্যেকের জন্য ভোট প্রত্যাশা করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলেই এবং এত দীর্ঘ সময় দেশে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রয়েছে বলেই আজকে বাংলাদেশের উন্নয়নটা দৃশ্যমান হচ্ছে। যখন ওই জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়া ক্ষমতায় ছিল বাংলাদেশের উন্নয়ন হয়নি বরং বাংলাদেশ পেছনে চলে গিয়েছিল। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যায়। কাজেই এই অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে।

তারুণ্যের শক্তি বাংলাদেশের অগ্রগতি-সে কথা  উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেটাতেই আমরা বিশ^াস করি।

তিনি বলেন, নতুন ভোটার যারা সেই নতুন ভোটারদের কাছে আমার আহ্বান, যারা প্রথমবারের মতো ভোট দিতে আসবেন তারা নিশ্চয়ই চাইবেন না আপনার প্রথম ভোটটি ব্যর্থ হোক, কাজেই আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে নৌকাকে জয়যুক্ত করবেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র আবুল খায়ের আবদুল্লাহ, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু ও অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খান ও জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, অভিনেতা ও অভিনেত্রী মীর সাব্বির ও তারিন জাহান সমাবেশে বক্তৃতা করেন।

সমাবেশ পরিচালনা করেন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ ও সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন। মঞ্চে এসে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা উভয়েই মঞ্চের প্রান্তে জনতার কাছে গিয়ে জাতীয় পতাকা নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। জনগণও তাদের হাতের পতাকা নেড়ে জবাব দেয়।

শুরুতেই শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে স্বাগত জানাতে বরিশালের সাংস্কৃতিক কর্মীরা স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী গান পরিবেশন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বরিশাল একসময় ছিল শস্যভান্ডার। বরিশালের সেই সুনাম আবারও আমরা ফিরিয়ে আনতে চাই। তার জন্য এই অঞ্চলে খাদ্য মজুদ রাখার জন্য আমরা সাইলো নির্মাণ করে দিচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সব বিভাগে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার দেশে এ পর্যন্ত ৪টি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করেছে, ইনশাআল্লাহ বরিশালেও একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করে দেওয়া হবে।

বরিশালের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় আসতে পারলে বিভাগটি নিয়ে আগামীর চিন্তা সম্পর্কে দলটির সভাপতি বলেন, এখানে সরকার বিশ্ববিদ্যালয় করেছে, মেরিন একাডেমি করে দিয়েছে, তা ছাড়া প্রত্যেকটি নদীর ওপর সেতু নির্মাণ করে দিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের দুর্নীতির ভুয়া অভিযোগকে চ্যালেঞ্জ করে সরকার প্রমত্তা পদ্মার ওপর সেতু করে দেওয়ায় রাজধানীর সঙ্গে এর দূরত্ব হ্রাস পেয়েছে, এই অঞ্চল সমৃদ্ধ জনপদে পরিণত হয়েছে।

তিনি স্মরণ করেন, ছোটবেলায় এই বরিশালে যখন আসতেন আগের দিন সন্ধ্যায় স্টিমারে চড়লে পরদিন দুপুরে নামিয়ে দিত। তখন এখানে ঘোড়ারগাড়ি চলত-বলতেন কালীবাড়ি রোড সুধীরবাবুর বৈঠকখানার কাছে যেতে হবে। পরে এখানে গাড়ি চালু হয়। আর আজকের সেই অবহেলিত বরিশাল যে কতটা উন্নত তা সবাই দেখতে পাচ্ছেন।

তিনি বলেন, এই বিভাগে আমরা নৌবাহিনী ঘাঁটি করেছি, সেনানিবাস তৈরি করেছি, বিদ্যুৎ কেন্দ্র করা হয়েছে, এখানে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দিচ্ছি, সেখানে সোলার প্যানেলসহ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছি। ভোলার গ্যাস সিএনজি করে আমরা ঢাকায় নিচ্ছি যা ভবিষ্যতে বরিশালেও আমরা নিয়ে আসব। শিল্প-কলকারখানা যাতে গড়ে ওঠে তার ব্যবস্থাও করব।

খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন :