
শাহজাহান বিশ্বাস: মানিকগঞ্জের শিবালয়ে গ্রামীণ উন্নয় ও গ্রামের আলো নামের একটি এনজিও গ্রাহকের প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাত করায় উক্ত সংস্থার চেয়ারম্যান জগনাথ চন্দ্র দাসকে আটক করেছে গ্রাহক ও স্থানীয় জনতা।গ্রামের দরিদ্র সাধারণ মানুষদেরকে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে সঞ্চয়ের নামে কোটি-কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা এমন অভিযোগ তুলেছেন। গ্রাহকরা তাদের সঞ্চয়ের টাকা ফেরত না পেয়ে দ্বারে-দ্বারে ঘুড়ে বেড়াচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিবালয় উপজেলার টেপড়া বলাই দাসের ছেলে জগনাথ চন্দ্র দাস (৪৫),গোবিন্দবাড়ী গ্রামের জহির উদ্দিনের ছেলে আলম, ছোট কুষ্টিয়া গ্রামের কানাই শেখের ছেলে রজ্জব আলী ও শিবরামপুর গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে মোহাম্মদ আলী মাষ্টারের যোগসাজসে গ্রামীণ উন্নয়ন মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ ও গ্রামের আলো নামের দু’টি এনজিও সংস্থার নামে লোকজনের নিকট থেকে এককালিন, মাসিক, সাপ্তাহিকসহ বিভিন্ন মেয়াদে সঞ্চয়-আমানত বাবদ বিভিন্ন অংকের টাকা নেয় তারা। জমাকৃত টাকা সাত বছরে দ্বিগুণ হবে এসব কথা বলে এরা গ্রামের অনেক ব্যাক্তির নিকট ৫০ হাজার থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত হিসেবে জমা নিয়েছে। আরো চার বছর আগে সুদ-আসলে এসব টাকা ফেরৎ দেয়ার কথা থাকলেও তারা তা না দিয়ে নানা ধরনের টালবাহানা করছে।একে-অপরের দোষ দিয়ে নানা বিধ প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে তারা।
ভুক্তভোগী গ্রাহক মোস্তফা মল্লিক জানান, আমি দ্বিগুণ লাভের কথা বলে আমার কাছ থেকে ৬লাখ টাকা নেয়।মেয়াদ শেষ হলেও এ পর্যন্ত এক টাকাও দেয়নি।টাকা চাইলেই বলে আমরা চেয়ারে বসে থাকবো তোমরা ভিক্ষা করে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করো। তিনি আরো বলেন, এই টাকার শোকে ইতোমধ্যে চার/পাঁচজন গ্রাহক মারা গেছেন।
একই এলাকার হাফিজুল বলেন, আমি রিক্সা-ভ্যান চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাই।অনেক কষ্ট করে টাকা সঞ্চয় করেছি।সাত বছরে দ্বিগুণ দেয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ২লাখ টাকা নিয়েছে। এ যাবৎ একটাকাও পাইনি। আমার মা অসুস্থ্য টাকার অভাবে তার চিকিৎসা করতে পারছিনা।
টেপড়া এলাকার নিলুফা বেগম দ্বিগুণের আশায় এককালিন ৩০হাজার টাকা জমা রেখেছেন।সাত বছরের কথা বলে নিয়েছে। কিন্তু ১০ বছর পার হলেও আমার টাকা দিচ্ছে না ওরা।
একই গ্রামের মমতাজ বলেন, সাত বছরে ডাবল টাকা দেওয়ার কথা বলে আমার নিকট থেকে ৩ লাখ ও আমার ছেলের নিকট থেকে ৪ লাখ টাকা নিয়েছে।এখন টাকা চাইলে দেই-দিচ্ছি বলে নানা ধরনের তালবাহানা করছে।
ভুক্তভোগী নুরুন্নাহার বলেন, মাসে তিন হাজার টাকা করে মুনাফা দেওয়ার কথা বলে তার নিকট থেকে ৩ লাখ টাকা নেয়।কয়েক মাস দেওয়ার পর আর দিচ্ছে না। এখন আসল টাকারও হদিস নাই।
স্থানীয় উলাইল ইউপি চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান বলেন, আমরা গ্রাম্যভাবে বসে গ্রাহকের আসল টাকা দেওয়ার জন্য বলেছিলাম আলম এবং জগদিসকে।সেই টাকাগুলো এখনও দেয়নি। পরবর্তিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে দরখাস্ত করেছে। সাধারণ মানুষের টাকাটা যাতে উঠানো যায় আমরা সেই চেষ্টা করছি।
এ বিষয়ে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, এ নিয়ে আলোচনায় কোন সুরাহা না হওয়ায় অবশেষে জনতার চাহিদা অনুযায়ী গ্রামীণ আলোর চেয়ারম্যান জগদীশকে সেনাবাহীনির নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
Leave a Reply