
নিজস্ব প্রতিনিধি: পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে স্বাভাবিক ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে পাটুরিয়া ঘাটে অপেক্ষমাণ যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ সারি রয়েছে। এতে যাত্রী ও যানবাহন শ্রমিকদেরক চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নদীতে প্রবল স্রোত, ফেরি স্বল্পতা এবং ফেরি ঘাট এলাকায় নদী ভাঙ্গনের কারণে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে বিআইডব্লিউটিসি সুত্রে জানা গেছে। নদী পারাপারের জন্য ফেরির অপেক্ষায় রয়েছে পণ্যবাহী ট্রাকসহ শত শত যানবাহন।
সোমবার পাটুরিয়া ঘাট ঘুরে দেখা গেছে পাটুরিয়ায় ৫টি ঘাটের মধ্যে ৩, ৪ ও ৫ নং তিনটি ঘাটের আংশিক সচল রয়েছে। এর মধ্যে ৩ নং ঘাটের ১টি পকেট দিয়ে সীমিত আকারে ফেরি লোড-আনলোড করা হচ্ছে। এদিকে নদীতে পানি বৃদ্ধির কারণে ঘাটগুলোকে লো ওয়াটার লেবেল থেকে হাই ওয়াটার লেবেলে উঠানো হচ্ছে। এসময় ঘাটগুলো সাময়িক বন্ধ থাকছে। প্রবল স্রোতে নদীর তীরবর্তি এলাকায় ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। পাটুরিয়া ৪ ও ৫ নং ঘাটের একাংশ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতেও ফেরি চলাচল বিঘ্ন ঘটছে।
বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, স্রোতের বিপরীতে ফেরি চলতে আগের তুলনায় দ্বিগুণ সময় লাগছে। আগে যেখানে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটের ৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগত ৩০/৩৫ মিনি। এখন সময় লাগছে ৬০ মিনিটেরও বেশি। তীব্র স্রোতের তোড়ে ঘাটে পন্টুনে ফেরি ভেড়ানোও অনেক কষ্টকর হয়ে পড়েছে। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ছোট-বড় মিলে ১৬টি ফেরির মধ্যে স্রোতের কারণে ৩টি ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ৪টি ফেরি মেরামতে রয়েছে। বাকি ৯টি ফেরি দিয়ে পারাপার অব্যাহত থাকলেও উভয় ঘাটেই যানবাহনের চাপ বাড়ছে বলে ঘাট সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে। একদিকে গাড়ির চাপ অপরদিকে স্রোতের কারণে ফেরির ট্রিপ সংখ্যা কমে গেছে। যেকারণে ঘাটে এসে গাড়িগুলোকে পারের জন্য অপেক্ষার প্রহর গুণতে হচ্ছে। এতে একদিকে গাড়ি চালক এবং মালিকদের হয়রানি ও ভোগান্তি পড়তে হচ্ছে অপরদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন ফেরি কর্তৃপক্ষ। ফেরি পার হতে আসা গাড়িগুলো পাটুরিয়া টার্মিনালে এবং সড়কের উপর রাখা হয়েছে। নদী পার হওয়ার জন্য ফেরি অপেক্ষায় রয়েছে এসব যানবাহন। ফেরিতে নদী পার হওয়ার জন্য পাটুরিয়া ফেরি ঘাটে অনেক যাত্রীকেও ফেরি জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জৈনক এক ফেরির মাস্টার জানান, ৪ কিলোমিটার দুরুত্বে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে একটি ফেরি যাতায়াতে ৪০ মিনিটের স্থলে সময় লাগছে ১ ঘন্টা। এতে ফেরির ট্রিপ সংখ্যাও অনেক কমে গেছে। এতে ঘাট এলাকায় গাড়ি জমা হয়ে ফেরি পারাপারের জন্য অপেক্ষা করছে।
ট্রাক চালক বলেন ইয়ার আলী বলেন, রাজধানী ঢাকার সাথে দেশের পশ্চিমাঞ্চলের সহজ যোগাযোগের অন্যতম মাধ্য হচ্ছে পাটরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুট। ফেরিতে বিশ্রাম ও একটু আরামের জন্য পদ্মা-সেতু হওয়ার পরও অনেক চালকরা এ পথে যাতায়াত করে। কিন্তুু নদীতে প্রবল স্রোত ও ফেরি স্বল্পতার কারণে ঘাটে এসে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষো করতে হয় বলে ভাল লাগেনা। পদ্মা সেতু চালু হলেও ঘাটের বিড়ম্বনা যেন পিছু ছাড়ছে না।
তিনি আরো বলেন, যাত্রীবাহি যানবাহনগুলোকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিত্বে পারাপার করলেও পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে ১/২দিন অপেক্ষার পর ফেরি পার হতে হচ্ছে। গাড়ি জমা হতে হতে পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া দুই ঘাটে ২শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানা গেছে।গাড়ির চালকরাও ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতে থাকতে অধর্য হয়ে পড়েন।
বিআইডব্লিউটিসি আরিচা অঞ্চলিক কার্যালয়ের ডিজিএম (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুস সালাম বলেন, উক্ত নৌরুটি গুরুত্ব এখন রয়ে গেছে। কিন্তুু নদীতে স্রোতের কারণে স্বাভাবিক ফেরি সার্ভিস ঠিক রাখা কঠিণ হয়ে পড়েছে। গাড়ি চালকরা ঘাটে এসে ফেরিতে আগে উঠার জন্য প্রতিযোগীতা শুরু করে দেন। এসময় ফেরিতে গাড়ি উঠার রাস্তা বন্ধ হয়ে ফেরি লোড-আনলোডে অনেক সময় লেগে যায়। স্রোত কমলে এ পরিস্থিতি থাকবে না বলে তিনি জানান।
Leave a Reply