1. id69_178fc3@local.host : id69_178fc3 :
  2. shahjahanbiswas74@gmail.com : Shahjahan Biswas : Shahjahan Biswas
  3. ssexpressit@gmail.com : sonarbanglanews :
  4. wp2_de0746@wp2shell.invalid : wp2_de0746 :
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ন

দৈনন্দিন কাজকর্মে সুন্নতের অনুসরণ

  • সর্বশেষ আপডেট : শুক্রবার, ১২ মে, ২০২৩
  • ২৬০ বার পড়েছেন

অনলাইন ডেস্ক: আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের সাধারণ কিছু কাজ থাকে, যেমন-খাওয়া, ঘুম, গোসল, রান্নাবান্না, প্রতিবেশীদের সঙ্গে খোশগল্প, গৃহপালিত পশু লালন-পালন, বাচ্চাদের দেখভাল ইত্যাদি। এসব আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের নিত্যকার ঘটনা। যদিও স্বাভাবিক দৃষ্টিতে এই কাজগুলো দুনিয়ার জীবনের জন্য, কিন্তু আমরা যদি এই কাজগুলোই আল্লাহর হুকুম এবং নবীর তরিকায় করতে পারি তা হলে এইগুলোও আমার পরকালের উপার্জন হিসেবে গণ্য হয়ে যাবে।

প্রথমেই লক্ষ করি খাবারের বিষয়টি। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘হে আদম সন্তান! তোমরা প্রত্যেক সিজদার স্থলে বা মসজিদে (নামাজের সময়) সৌন্দর্য গ্রহণ করো (পোশাক ও সাজসজ্জা পরিধান করে নাও), খাও এবং পান করো, কিন্তু অপব্যয় করো না। তিনি অপব্যয়ীদেরকে ভালোবাসেন না’ (সুরা আরাফ :৩১)। অর্থাৎ আমি যখন রাসুলের তরিকা অনুযায়ী অপব্যয় ছাড়া খাবার গ্রহণ করব, তখন সেটা আমার আমলনামায় ইবাদত বলে গণ্য হবে।

দৈনন্দিন জীবনের আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো ঘুম। এই ঘুমও আমার ইবাদত বলে গণ্য হবে, যদি তা আল্লাহর হুকুম ও নবীর তরিকা মতো হয়। রাতে ঘুমানোর আগে যদি এশার ফরজ নামাজ জামাতে আদায় করি এবং ঘুম থেকে উঠে ফজরের ফরজ জামাতে আদায় করতে পারি, তা হলে রাতের ঘুমও আমার ইবাদত বলে গণ্য হবে। আল্লাহ তায়ালা আমার এই ঘুমের ব্যাপ্তিকালটা নফল ইবাদতের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে নেবেন।

এ ছাড়া দুপুরে একটু শুয়ে বিশ্রাম নেওয়াও সুন্নত। ঘুমানোর আগে বিছানা ঝাড়ু দিয়ে ঘুমানো সুন্নত। ডান কাতে ঘুমানোও সুন্নত। বিজ্ঞানের ভাষায় বাম দিকে হৃৎপিণ্ড থাকায় বাম কাতে শুয়ে থাকলে হৃৎপিণ্ডে দেহের অতিরিক্ত চাপ পড়ে।

রান্নাবান্না করাও দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম একটি কাজ। সাধারণত বাড়ির স্ত্রীরাই বেশির ভাগ রান্নাবান্নার দিকটি সামলে থাকে। স্ত্রীদের রান্না খেয়ে পরিবারের পুরুষরা যতক্ষণ ইবাদতে লিপ্ত থাকবে, ততক্ষণ এই ইবাদতের একটি অংশ সেই স্ত্রীর আমলনামায় লেখা হতে থাকে। আবার রান্নাবান্না যদি পুরুষ করে, সে খাবার খেয়ে নারী ইবাদত করে, তা হলে সেই পুরুষের আমলনামায়ও সওয়াব লেখা হবে।

আমাদের আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবের মধ্যে প্রায়ই অসুস্থ হওয়ার কথা শোনা যায়। আমরা তাদের দেখতে যাই। এই রোগী দেখতে যাওয়াও সুন্নত। হজরত আলী (রা.) বর্ণনা করেন, আমি রসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি সকাল বেলা কোনো অসুস্থ মুসলমানকে দেখতে যায়, ৭০ হাজার ফেরেশতা বিকাল পর্যন্ত তার জন্য দোয়া করতে থাকে। আর বিকালে রোগী দেখতে গেলে সকাল পর্যন্ত ৭০ হাজার ফেরেশতা দোয়া করে’ (তিরমিজি :৯৬৭)। এভাবে প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথাবার্তা বলা, তাদের খোঁজখবর নেওয়াও (তিনি অমুসলিম হলেও) আমাদের জীবনযাপনের অন্যতম একটি সাধারণ কাজ।

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে সে যেন প্রতিবেশীর সঙ্গে সদাচরণ করে’ (মুসলিম : ১৮৫)। এ ছাড়াও সন্তানের দেখভাল করা, পশুপাখির প্রতি দয়া দেখান, মুচকি হাসি দেওয়া, মেসওয়াক করা, পায়খানায় পানি খরচ করা ইত্যাদি স্বাভাবিক কাজ হলেও আল্লাহর হুকুম আর নবীর তরিকায় করতে পারলে তাই ইবাদতের অংশ হিসেবে পরকালে নাজাতের উপায় ও উপলক্ষ হবে। কিন্তু তার জন্য আমাদের প্রয়োজন শুধু পরকালের নিয়ত করে কাজটি সম্পাদন করা। কারণ রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল’ (বুখারি : ১)। আল্লাহ তায়ালা আমাদের পার্থিব বৈধ সব কাজকে কবুল করুক।

খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন :