
অনলাইন ডেস্ক: বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) অর্থায়নের গুরুতর ঘাটতির কারণে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের খাদ্য সহায়তা কমানোর পরিকল্পনা নিয়েছে জাতিসংঘ।
ঢাকায় অবস্থিত ডব্লিউএফপি এর কার্যালয় শুক্রবার এই তথ্য জানিয়ে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির জন্য এক বছরে পর্যাপ্ত পরিমাণে জীবন রক্ষাকারী খাদ্য সহায়তা চালিয়ে যেতে প্রয়োজন ১২ কোটি ৫০ লক্ষ মার্কিন ডলার, যেখানে পর্যাপ্ত তহবিল পাওয়া যায়নি। পর্যাপ্ত তহবিলের জন্য দ্রুত অনুদান না পেলে এই বছরেই অনিবার্যভাবে খাদ্য সহায়তার পরিমাণে এমন আরও কাটছাট হতে পারে।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১ মার্চ থেকে অনুদানের পরিমাণে ১২ কোটি ৫০ লক্ষ মার্কিন ডলার কম থাকার কারণে ডব্লিউএফপি প্রত্যেক রোহিঙ্গার জন্য দেওয়া খাদ্য সহায়তা ভাউচারের পরিমাণ ১২ মার্কিন ডলার থেকে কমিয়ে ১০ মার্কিন ডলারে নিয়ে আসতে হয়েছে।
বাংলাদেশে ডব্লিউএফপি’র কান্ট্রি ডিরেক্টর ডম স্কালপেল্লি বলেন, “রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ও মানবিক সহায়তা দানকারী গোষ্ঠীর জন্য এটি একটি বড় ধরনের বিপর্যয়। অন্যান্য অতি জরুরি সেবাগুলো সংকুচিত হয়ে আসার সাথে সাথে খাদ্য সহায়তায় এই পরিবর্তনের (এমনকি তা মাত্র ২ ডলার সমপরিমাণ হলেও) প্রভাব হবে মারাত্মক।”
রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে রোহিঙ্গাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ খুবই সীমিত, ঝুঁকির মুখে থাকা অন্যান্য জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে যা তেমনটি নয়। এই জনগোষ্ঠী তাদের খাদ্য ও অন্যান্য জরুরি প্রয়োজন মেটাতে মানবিক সহায়তার ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। গত ২০১৭ সালে মায়ানমার থেকে রোহিঙ্গা পুরুষ, নারী ও শিশুরা পালিয়ে আসা শুরু করার সময় থেকে দাতাগোষ্ঠী ও অংশীদার সংস্থাগুলোর সহায়তায় তাদের জন্য খাদ্য ও পুষ্টিসহ অন্যান্য অতি জরুরি সহায়তা দিয়ে আসছে ডব্লিউএফপি। বর্তমানে প্রায় দশ লক্ষ রোহিঙ্গার প্রত্যেককেই ভাউচারের মাধ্যমে প্রতিমাসে ১২ মার্কিন ডলার সমমূল্যের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যা ব্যবহার করে রোহিঙ্গা পরিবারগুলো সবগুলো ক্যাম্পে অবস্থিত ডব্লিউএফপি’র আউটলেটগুলো থেকে ৪০টিরও বেশি শুকনো ও তরতাজা খাবার থেকে তাদের পছন্দের খাবারগুলো বেছে নিতে পারে।
মানবিক সহায়তা দানকারী সংস্থাগুলোর সমবেত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ৪৫ শতাংশ রোহিঙ্গা পরিবার পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার খেতে পারে না, যার ফলে ক্যাম্পগুলোতে ব্যাপকভাবে অপুষ্টি লক্ষণীয়। শিশুদের ক্ষেত্রে গ্লোবাল একিউট ম্যালনিউট্রিশনের হার ১২ শতাংশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশকৃত ’জরুরি’ ১৫ শতাংশের কম হলেও এই হারকে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে ধরা হয়। প্রায় ৪০ শতাংশের মতো শিশুর সঠিক শারীরিক বিকাশ ও বৃদ্ধি হয় না, আর গর্ভবতী ও সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন এমন নারীদের ৪০ শতাংশই রক্তস্বল্পতায় ভুগছে। আর এই সবই খাদ্য সহায়তার পরিমাণে কমানোর আগেকার অবস্থা। দ্রুত অনুদান না পেলে এই বছরেই অনিবার্যভাবে খাদ্য সহায়তার পরিমাণে এমন আরও কাটছাট হতে পারে।
স্কালপেল্লি বলেন, “প্রতিবার খাদ্য সহায়তা হ্রাসের সাথে সাথে অনিবার্যভাবে অপুষ্টির পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। প্রতিবার খাদ্য সহায়তা হ্রাসের সাথে সাথে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে পরিবারগুলো অধিকতরভাবে বিপজ্জনক পথ বেছে নিতে থাকবে। দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, এর সবচেয়ে খারাপ প্রভাব পড়বে নারী, কিশোরী ও শিশুদের ওপর। গুরুত্বপূর্ণ যে মানবিক সহায়তার ওপর তারা নির্ভরশীল, তা অক্ষুন্ন রাখতে আমাদেরকে অবশ্যই সাধ্যের সবটুকু করে যেতে হবে।”
Leave a Reply