1. id69_178fc3@local.host : id69_178fc3 :
  2. shahjahanbiswas74@gmail.com : Shahjahan Biswas : Shahjahan Biswas
  3. ssexpressit@gmail.com : sonarbanglanews :
  4. wp2_de0746@wp2shell.invalid : wp2_de0746 :
শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:২১ অপরাহ্ন

চট্টগ্রামের ইটভাটার থাবায় উজাড় পাহাড়ি  টিলা

  • সর্বশেষ আপডেট : রবিবার, ২৫ মে, ২০২৫
  • ১৭৭ বার পড়েছেন

অনলাইন ডেস্ক: ২৫ মে ২০২৫

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার ছনখোলা চূড়ামণি এলাকার পাহাড়ি টিলা ছিল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অমূল্য অংশ। আজ তা কাটাছেঁড়ার কবলে পড়ে ম্লান হয়ে গেছে। একটা সময়ে সবুজে ছেয়ে থাকত এই পাহাড়ি টিলাগুলো। কিন্তু এখন টিলার মাটি কাটা চলছে বীর দর্পে। কাটার পর সেই মাটি চলে যাচ্ছে ইটভাটায়। এই অবৈধ কার্যক্রমের পেছনে রয়েছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। তারা টিলা কাটা থেকে শুরু করে মাটি পরিবহন পর্যন্ত পুরো চক্র নিয়ন্ত্রণ করছে। পাহাড় কাটার সরঞ্জাম, শ্রমিক ও ট্রাকের ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে চালানো হচ্ছে।

পরিবেশ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাহাড় বা টিলা কাটা শুধু পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নয়, এটি স্থানীয় কৃষকদের জীবনযাত্রাকেও বিপর্যস্ত করছে। মাটি ক্ষয় ও পাহাড় ধ্বংসের ফলে সেচ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে যা ফসল উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, ছনখোলা চূড়ামণি এলাকায় টিলা কাটা ও মাটি পরিবহনের চিহ্ন স্পষ্ট। টিলার গায়ে বড় বড় গর্ত। পাশ দিয়ে চলছে মাটিভর্তি ট্রাকের আনাগোনা। স্থানীয়দের অভিযোগ, টিলা কাটা বন্ধ করতে প্রশাসন যথেষ্ট তৎপর নয়।

বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন-১৯৯৫ অনুযায়ী, পাহাড় বা টিলা কাটার ক্ষেত্রে অনুমতি ছাড়া কোনো কাজ করা যায় না। প্রশাসন পাহাড় কাটাকে অবৈধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ মনে করে এবং কঠোর ব্যবস্থা নিতে অঙ্গীকারবদ্ধ। ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানার মাধ্যমে বার্তা দিয়ে থাকে এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে। সাতকানিয়া উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতর যৌথভাবে পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের সচেতনতা বৃদ্ধি ও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তারা বলছেন, পাহাড় কাটার অবৈধতা বন্ধ করতে দরকার ব্যাপক পরিকল্পনা ও স্থানীয়দের অংশগ্রহণ। শুধু অভিযান ও জরিমানা দিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। একাধিক দিক থেকে কাজ করতে হবে। তার মধ্যে রয়েছে সরকারি উদ্যোগ, জনসচেতনতা, স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতকানিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারিস্তা করিম বলেন, অনেক দিন ধরেই চূড়ামণি এলাকায় অবৈধ পাহাড় কাটার খবর পাচ্ছিলাম আমরা। বিভিন্ন পর্যায়ে অনুসন্ধান শেষে শনিবার অভিযান পরিচালনা করা হয়।

তিনি আরও বলেন, আমরা জানতে পারি রাতে টিলার কেটে মাটি সরবরাহ করা হচ্ছে। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযান চালানো হয়। এ সময় এইচএবি ব্রিকস এবং এমবিএফ ব্রিকস ইটভাটার ম্যানেজারদের জরিমানা করা হয়েছে। এইচএবি ব্রিকস এবং এমবিএফ ব্রিকস ইটভাটার মালিকানা ও ব্যবসার কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা জল্পনা রয়েছে। এই দুটি ইটভাটার ম্যানেজার রাবেত ইসলাম ও মানিক দেবনাথ অভিযানের সময় অভিযুক্ত হন। তারা অভিযোগ অস্বীকার করলেও ভূমি অফিস ও পরিবেশ অধিদফতর নিশ্চিত করেছে, তাদের কাছে বৈধ অনুমতি নেই।

স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষ প্রশাসনের পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও তারা বলছেন, শুধু জরিমানা দিয়ে সমস্যা সমাধান হবে না। মূল সিন্ডিকেট ও রাজনৈতিক ছত্রছায়া না ভাঙলে পাহাড় কাটা বন্ধ হবে না। সাতকানিয়া ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই পাহাড়ি মাটি কাটা হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে প্রশাসন অভিযানে নামলেও অবৈধ কার্যক্রম থেমে যায়নি। কারণ পাহাড় কাটার পেছনে রয়েছে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।

ছনখোলা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কেটে মাটি সরবরাহের অভিযোগে শনিবার বেলা ১১টার দিকে অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে দুই ইটভাটার ম্যানেজারকে মোট দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারিস্তা করিম। সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পরিবেশ অধিদফতরের সিনিয়র রসায়নবিদ জান্নাতুল ফেরদৌস, স্থানীয় থানা পুলিশের সদস্য ও ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা।

অভিযান সূত্রে জানা যায়, ছনখোলার পাহাড়ি টিলার মাটি অবৈধভাবে কেটে এইচএবি এবং এমবিএফ ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছিল।

স্থানীয়রা জানান, সাতকানিয়া ছনখোলা এলাকায় টিলা কেটে মাটি সরবরাহের অভিযোগে দুই ইটভাটার ম্যানেজারকে জরিমানা করা হলেও মূল সিন্ডিকেটের সন্ধান এখনও অধরা। প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকলেও এর দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য প্রয়োজন সমন্বিত প্রচেষ্টা। টিলা কাটা বন্ধে প্রশাসনের কাজ যতটা কঠোর হওয়া প্রয়োজন বাস্তবে তা অনেক সময় ঝামেলা ও রাজনৈতিক চাপের মুখে সীমাবদ্ধ থাকে। স্থানীয় সিন্ডিকেট ও কিছু অসৎ কর্মকর্তার কারণে অভিযান সফল হওয়া কঠিন। স্থানীয়রা প্রশাসনের কাজকে সমর্থন করলেও তারা আরও জোরালো পদক্ষেপ চাইছেন।

মূল সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে জানিয়েছে তারা ।

খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন :