
শাহজাহান বিশ্বাস: ঘণকুয়াশার কারণে বুধবার দিবাগত রাত ১১:৫০টা থেকে আরিচা-কাজিরহাট এবং বৃহস্পতিবার রাত ৩টা থেকে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটের আবার বন্ধ হলো ফেরি সার্ভিস। ফলে এসব নৌরুটগুলোতে ফেরিতে যাতায়াতকারি যাত্রী ও যানবাহন শ্রমিকদেরকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এনিয়ে এ মাসে তৃতীয় বারের মতো ফেরি সার্ভিস বন্ধ থাকছে।
বিআইডব্লিউটিসি আরিচা আঞ্চলিক অফিস সুত্রে জানা গেছে, ঘণকুয়াশার কারণে বুধবার দিবাগত রাত ১১টা ৫০ মিনিট থেকে আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে।এসময় দু’টি ফেরি হামিদুর রহমান ও কিষাণী যাত্রী ও যানবাহন নিয়ে কনেকনে শীতের মধ্যে যমুনার মাঝ নদীতে নোঙর করে রয়েছে। চারটি ফেরি খানজাহান আলী, শাহ আলী, চিত্রা ও ধানসিড়ি আরিচা ঘাটে নোঙর করে রয়েছে।
এদিকে ঘণকুয়াশার কারণে বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) রাত ৩টা থেকে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নোরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এসময় দু’টি রো-রো ফেরি শাহ পড়ান ও এনায়েতপুরী পদ্মা নদীর মাঝে নোঙর করে থাকতে বাধ্য হয়েছে।
এছাড়া ৪টি ফেরি বনলতা, বীর শ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান, কেরামত আলী ও গৌরী পাটুরিয়া ঘাটে এবং ৬টি ফেরি বাইগার, বীর শ্রেষ্ট জাহাঙ্গীর, কুমিল্লা, ভাষা শহীদ বরকত, হাসনাহেনা ও ডা:গোলাম মাওলা দৌলতদিয়া ঘাটে পন্টুনের সাথে বেধে রাখা হয়েছে।
এ মাসে গত তিনদিন ধরে সন্ধ্যার পর পরই পদ্মা-যমুনা অববাহিকায় কুয়াশা পড়তে থাকে।রাত বাড়ার সাথে সাথে কুয়াশার ঘণত্বও বাড়তে থাকে।এসময় নৌপথ দৃষ্টি সীমার বাইরে চলে যায় এবং ফেরি চলাচল ঝুকিপূ্র্ণ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় ফেরি চলাচলে যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা থাকে বলে কর্তৃপক্ষ ফেরি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।ঘণকুয়াশা কেটে গেলে আবার ফেরি চলাচল শুরু হবে। উক্ত নৌরুটগুলোতে এর আগেও গত ১০ ডিসেম্বর ৪ ঘন্টা এবং ১১ ডিসেম্বর ৮ ঘন্টা ঘণকুয়াশার কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল বলে অফিস সুত্রে জানা গেছে।
বিআইডব্লিউটিসি’র আরিচা আঞ্চলিক কাযার্লয়ের ডিজিএম মো.নাসির মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ঘণকুয়াশা নৌপথ দৃষ্টিসীমার বাহিরে চলে যায়। এসময় ফেরি চালানো খুবই ঝুঝিপূ্র্ণ পড়ে।তাই দুর্ঘটনা এড়াতেই কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে আরিচা-কাজিরহাট বুধবার রাত ১১:৫০টা থেকে এবং পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে বৃহস্পতিবার রাত ৩টা থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। ঘণকুয়াশা কেটে গেলে আবার ফেরি চলাচল শুরু করবে বলে তিনি জানান।
Leave a Reply