1. id69_178fc3@local.host : id69_178fc3 :
  2. shahjahanbiswas74@gmail.com : Shahjahan Biswas : Shahjahan Biswas
  3. ssexpressit@gmail.com : sonarbanglanews :
  4. wp2_de0746@wp2shell.invalid : wp2_de0746 :
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
শিবালয়ে এক কেজি গাঁজাসহ ১ মাদক কারবারি আটক শিবালয়ে সরকার বিরোধী অপপ্রচারের প্রতিবাদে লিফলেট বিতরণ ভরা মৌসুমেও পদ্মা-যমুনায় মিলছে না ইলিশ হতাশ জেলেরা মানিকগঞ্জের গোবিন্দল গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্টের ট্রফি উন্মোচন শিবালয়ে অসহায় মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য নির্মিত হচ্ছে হাসপাতাল মানিকগঞ্জে স্ত্রী ও কন্যা শিশুকে হ-ত্যার পর প্রবাসীর আত্ম-হত্যার অভিযোগ শিবালয় উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি হেনা মিয়ার ইন্তেকাল মানিকগঞ্জে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত শিবালয়ে ৫ লক্ষ টাকা মূল্যের অবৈধ চায়না দুয়ারী ও কারেন্ট জাল জব্দ শিবালয়ে মাংসের দোকানে মোবাইল কোর্ট তিন ব্যবসায়ীকে জরিমানা

ইসলামে স্বাধীনতার তাৎপর্য

  • সর্বশেষ আপডেট : রবিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৩
  • ২১৪ বার পড়েছেন

অনলাইন ডেস্ক: মহান আল্লাহর অপূর্ব দান স্বাধীনতা। প্রতিটি মানুষকে আল্লাহ স্বাধীন সত্তা হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। স্বাধীনতা যে কত বড় নেয়ামত, পরাধীন ব্যক্তিই তা অনুধাবন করতে পারেন। পরাধীনতা মানুষের জন্য আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের পথে বড় বাধা। পরাধীন মানুষের পক্ষে তৃপ্তিভরে আল্লাহর এবাদত করা অনেক কষ্টসাধ্য ব্যাপার। স্বাধীনতা অর্জন ও রক্ষায় সর্বশ্রেষ্ঠ রাসুল হজরত মুহাম্মাদ (সা.) অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘প্রত্যেক মানবসন্তান ফিতরাত তথা স্বভাবজাত ধর্মের ওপর জন্মগ্রহণ করে’ (বুখারি : ১৩৫৮)।

এই ফিতরাতের মধ্যেই স্বাধীনতার মর্মকথা নিহিত। মানুষের স্বভাবে আল্লাহ স্বাধীনতার যে চাহিদা দিয়েছেন, তা পূরণের অধিকারও দিয়েছেন। ইসলাম তাই বিবেকের স্বাধীনতা, মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা, ভৌগোলিক স্বাধীনতা এবং শিক্ষা, সভ্যতা ও সংস্কৃতির স্বাধীনতাকে স্বীকার করে। ইসলাম বিবেকের স্বাধীনতাকে স্বীকার করে বলে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় উচ্চারণ করেছে ‘ধর্ম গ্রহণের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই’ (সুরা বাকারা : ২৫৬)। ইসলাম একমাত্র সত্য ধর্ম হওয়া সত্ত্বেও তা গ্রহণের ব্যাপারে চাপ প্রয়োগের অনুমতি দেয়নি। মহান আল্লাহর অভিপ্রায় হচ্ছে মানুষ মুক্ত বিবেকে আন্তরিকভাবে সত্য ধর্মকে গ্রহণ করুক।

অন্তর ও বিবেক যে বিষয়টিকে সঠিক ভাবছে সে বিষয়টির অবাধ প্রকাশাধিকার না থাকলে বিবেকের স্বাধীনতার কোনো মানে থাকে না। তাই ইসলাম মত প্রকাশের অবাধ স্বাধীনতা প্রদান করেছে। মহানবী (সা.) বারিরাহ (রা.)-কে মুগিস (রা.)-এর সঙ্গে বিয়েবিচ্ছেদে বারণ করলেন। বারিরাহ (রা.) নিবেদন করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! একি আপনার আদেশ নাকি পরামর্শ? রাসুল (সা.) বললেন, নির্দেশ নয়, পরামর্শ। বারিরাহ (রা.) বললেন, তা হলে আমি আপনার অভিমত গ্রহণ করা না করার ব্যাপারে স্বাধীন। শেষ পর্যন্ত তিনি রাসুল (সা.)-এর সে পরামর্শটি গ্রহণ করেননি এবং এ কারণে রাসুল (সা.) তার প্রতি মনোক্ষুণ্নও হননি (বুখারি : ৫২৮৩)। রাসুল (সা.) মুসলিম সমাজে যথাযথভাবে প্রতিটি মানুষের স্বতন্ত্র স্বাধীনতার এ অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি সর্ব মুহূর্তে সত্য কথা অকপটে বলার জন্য উৎসাহ দান করেছেন। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘অত্যাচারী শাসকের সামনে ন্যায়সংগত কথা বলা সর্বোত্তম জিহাদ।’ (আবু দাউদ)

স্বাধীনতা একজন মানুষের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার প্রথম অধিকার। মানুষের ব্যক্তিস্বাধীনতা থেকে নিয়ে সর্বপ্রকার স্বাধীনতাকে ইসলাম অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সারা জীবনের মৌলিক উদ্দেশ্যের অন্যতম ছিল মজলুম জনতার স্বাধীনতা অর্জন করা এবং তাদের আল্লাহর সঙ্গে সম্পৃক্ত করা। তিনি আজ থেকে প্রায় সাড়ে ১৪শ বছর আগে আইয়ামে জাহেলিয়াতের অন্ধকার পরাধীনতা দূর করে মদিনা নগরীতে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মদিনাকে স্বাধীন করেছিলেন ইহুদিদের কবল থেকে। স্বাধীন রাষ্ট্রের ভিতকে মজবুত করার জন্য মদিনা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের মুসলমান, ইহুদি ও পৌত্তলিকদের নিয়ে সব জাতি ও সম্প্রদায়ের মানবিক ও ধর্মীয় অধিকারকে নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পাদন করেন-যা ‘মদিনা সনদ’ নামে প্রসিদ্ধ। একটি স্বাধীন কল্যাণ রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য এটিই পৃথিবীর প্রথম লিখিত সংবিধান।

স্বাধীনতা রক্ষা ও মর্যাদা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘একদিন ইসলামি রাষ্ট্রের সীমান্ত পাহারা দেওয়া পৃথিবী ও তার অন্তর্গত সবকিছুর চেয়ে উত্তম’ (তিরমিজি : ১৬৬৭)। অন্য হাদিসে বলেছেন, ‘মৃত ব্যক্তির সব আমল বন্ধ হয়ে যায়, ফলে তার আমল আর বৃদ্ধি পায় না। তবে ওই ব্যক্তির কথা ভিন্ন যে ব্যক্তি কোনো ইসলামি রাষ্ট্রের সীমান্ত পাহারায় নিয়োজিত থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, তার আমল কেয়ামত পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে থাকবে এবং কবরের প্রশ্নোত্তর থেকেও সে মুক্ত থাকবে’ (তিরমিজি : ১৬২১)। আরও বলেন, ‘একদিন এক রাতের পাহারা ক্রমাগত এক মাসের নফল রোজা এবং সারা রাত ইবাদতে কাটিয়ে দেওয়ার চেয়েও উত্তম।’ (মুসলিম)

আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা দিয়ে মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন। তাই মানুষ স্বাভাবিকভাবে এবং সংগত কারণে স্বাধীনচেতা। সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক কোনো ধরনের পরাধীনতাই ইসলাম সমর্থন করে না। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,  ‘

 যে মুক্ত করে তাদের, তাদের গুরুভার ও শৃঙ্খল থেকে-যা তাদের ওপর ছিল। সুতরাং যারা তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, তাঁকে সম্মান করে, তাঁকে সাহায্য করে এবং যে নূর তাঁর সঙ্গে অবতীর্ণ হয়েছে এর অনুসরণ করে তারাই কৃতকার্য।’ (সুরা আরাফ : ১৫৭)

রাসুল (সা.) একটি স্বাধীন ভূখণ্ড লাভের জন্য কঠোর সাধনা করেছিলেন। পৃথিবীতে চিরসত্য, ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার জন্য অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার পর তিনি ও তাঁর সাহাবায়ে কেরাম মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের মধ্য দিয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র অর্জন করেছিলেন এবং মক্কা বিজয়ের মাধ্যমে সে স্বাধীনতার বিস্তৃতি ও পূর্ণতা অর্জিত হয়েছিল। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করে চিন্তা ও মত প্রকাশের পূর্ণ সুযোগ দিয়ে তিনি ব্যক্তিস্বাধীনতাকে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বতোভাবে প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর কল্যাণমূলক আরব রাষ্ট্র পৃথিবীর ইতিহাসে একটি চিরন্তন আদর্শের উদাহরণ হয়ে আছে। শুধু তা-ই নয়, স্বাধীনতা অর্জনের পাশাপাশি স্বাধীনতা রক্ষায়ও তিনি জোরালো ভূমিকা রেখে গেছেন। রাসুল (সা.) হিজরত করার পর মদিনাকে নিজের মাতৃভূমি হিসেবে গণ্য করেন এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তাঁর জীবনের অনেক প্রতিরোধ যুদ্ধ ছিল মদিনা রাষ্ট্রের সুরক্ষার জন্য। তিনি স্বাধীনতা অর্জন ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবনদানকে শাহাদাতের মর্যাদায় ভূষিত করেন।

১৯৭১ সালে আমাদের মাতৃভূমির স্বাধীনতাও অনেক জান-মাল এবং ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে। এই অর্জনে যারা নিজেদের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন, ইসলামের দৃষ্টিতে তারাও শহিদের মর্যাদায় ভূষিত। সুতরাং এমন ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন :