1. id69_178fc3@local.host : id69_178fc3 :
  2. shahjahanbiswas74@gmail.com : Shahjahan Biswas : Shahjahan Biswas
  3. ssexpressit@gmail.com : sonarbanglanews :
  4. wp2_de0746@wp2shell.invalid : wp2_de0746 :
শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৫২ পূর্বাহ্ন

এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে দেশ কাঁপলেও,অবহেলিত মশা দিবস

  • সর্বশেষ আপডেট : রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৩
  • ৩৩৩ বার পড়েছেন

অনলাইন ডেস্ক: এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে কাঁপছে দেশ। চলতি বছরে দেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সাড়ে ৪০০ মানুষ মারা গেছেন। লক্ষাধিক ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ২০০০ সাল থেকে এ পর্যন্ত সাড়ে ৩ লাখ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আর মারা গেছেন প্রায় ১৩০০ রোগী।

দেশে এ পর্যন্ত ১২৩ প্রজাতির মশা শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় ১৪ প্রজাতির মশা রয়েছে। প্রতি বছরই মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে লক্ষাধিক মানুষ। মশা নিয়ন্ত্রণ ও মশাবাহিত রোগের চিকিৎসায় ব্যয় হচ্ছে হাজার কোটি টাকার ওপরে। বাংলাদেশে মশাবাহিত রোগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া ও জাপানিজ এনকেফালাইটিস। মশাবাহিত অন্যান্য রোগের তুলনায় বাংলাদেশে মূলত ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ তুলনামূলক বেশি।

কীটতত্ত্ববিদ ও জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, উষ্ণ-আর্দ্র আবহাওয়া, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা ও মানুষের অসচেতনতার কারণে বাংলাদেশ মশার প্রজননের উপযুক্ত ক্ষেত্র হিসেবে রূপান্তরিত হয়েছে। এরই মধ্যে আজ রোববার পালিত হচ্ছে বিশ^ মশা দিবস। মশার এ দেশে অবহেলিত ‘মশা দিবস’।

বিশ্বব্যাপী মশাবাহিত রোগের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসাধারণকে বিশেষভাবে সচেতন করার জন্য প্রতি বছর ২০ আগস্ট দিবসটি পালন করা হয়। ১৯৩০ সাল থেকে ‘বিশ্ব মশা দিবস’ পালিত হয়। ব্রিটিশ চিকিৎসক রোনাল্ড রস ১৮৯৭ সালের ২০ আগস্ট ম্যালেরিয়া রোগের কারণ যে মশা সেটি আবিষ্কার করেন। এ আবিষ্কারের জন্য তিনি পরে চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার পান। তার সম্মানে যুক্তরাজ্যের লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন দিবসটি পালন শুরু করে। এরপর থেকে পৃথিবীর অনেক দেশেই এ দিবস পালিত হয়ে আসছে।

শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘কেন এই ডেঙ্গু মহামারি? পরিত্রাণ কোন পথে?’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন কীটতত্ত্ববিদ মনজুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, নীতিনির্ধারকরা অবৈজ্ঞানিক পন্থায় হাঁটছেন। এতে মশা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। মারা যাচ্ছে মানুষ। অবৈজ্ঞানিক কথাবার্তায় নীতিনির্ধারকরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, মশা নিধনের নামে তামাশা চলছে। ব্যাঙ, হরিণ আর হাঁস দিয়ে মশা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। পৃথিবীর আর কোথাও এমনটা দেখা যায় না। ডোবা-নালায় এডিস মশা ব্রিড করে সেটার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তিনি আরও বলেন, জুলাই মাসে যে আক্রান্ত এবং মৃত্যু হয়েছে, সেটা আক্ষরিক অর্থেই মহামারি। মানুষ ভয় পেতে পারে এ জন্য সরকার ঘোষণা করতে পারছে না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে কী পরিমাণ লোক ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন তার প্রকৃত হিসাব পাওয়া যায় না। আমরা কেবল ৪০টির মতো হাসপাতালের তথ্য পাই। কিন্তু এর বাইরেও অসংখ্য রোগী অন্য হাসপাতালে চিকিৎসা নেন এবং অনেকেই বাসায় চিকিৎসা নেন। কেউ আবার পরীক্ষাই করান না। মশা নিয়ন্ত্রণে আমাদের এখানে তেমন কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয় না। ডেঙ্গু থেকে রক্ষা পেতে ফুলহাতা শার্ট, হাতে পায়ে মোজা, দিনে মশারির ভেতর ঘুমানো এবং অফিসে প্রতিদিন সকালে অ্যারোসেল ব্যবহারের পরামর্শ দেন এ কীটতত্ত্ববিদ। পাশাপাশি যে এলাকায় ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যাবে সেখানে ক্রাশ কর্মসূচি চালানোর কথা বলেন তিনি।

কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণে আমরা কতটা সফল তা বোঝা যায় দেশে মশাবাহিত রোগ কেমন হয়। আমাদের দেশে এখনও মশাবাহিত রোগীর সংখ্যা বেশি। মশা নিয়ন্ত্রণে সফল কতটা হলাম তা মূল্যায়ন কমিটি বলতে পারবে। তবে দুঃখজনক হলো আমাদের দেশে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এই ধরনের কোনো মূল্যায়ন কমিটি নেই। আর কেন এই কমিটি করা হচ্ছে না তা আমার জানা নেই।

খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন :