1. id69_178fc3@local.host : id69_178fc3 :
  2. shahjahanbiswas74@gmail.com : Shahjahan Biswas : Shahjahan Biswas
  3. ssexpressit@gmail.com : sonarbanglanews :
  4. wp2_de0746@wp2shell.invalid : wp2_de0746 :
রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০১:২৪ অপরাহ্ন

কূটনীতির ছায়া দুয়েক মাসের মধ্যে রাজনীতিতে স্পষ্ট হবে

  • সর্বশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৬ জুলাই, ২০২৩
  • ১৯৯ বার পড়েছেন

অনলাইন ডেস্ক: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে বাংলাদেশের ওপর ততই বাড়ছে প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর চাপ। এর পেছনে কাজ করছে তাদের বিভিন্ন ধরনের স্বার্থ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নাজুক হওয়ায় নির্বাচনের আগে প্রভাবশালী দেশগুলো সেই স্বার্থসিদ্ধির সুযোগ খোঁজে। আর এ জন্য বাড়ে কূটনৈতিক তৎপরতা। নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় বরাবরের মতো এবারও কূটনীতির ছায়াপাত ঘটছে দেশের রাজনীতিতে। আগামী আগস্ট-সেপ্টেম্বরে এ ছায়া আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করেন তারা।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর সবারই স্বার্থ রয়েছে বাংলাদেশে। অভাবনীয় অর্থনৈতিক উন্নতি, প্রায় ১৭ কোটি মানুষের বাজার এবং চলমান ভূ-রাজনীতিতে কৌশলগত অবস্থানের কারণে বিদেশিদের কাছে বাংলাদেশ অনেক গুরুত্বপূর্ণ। যদিও এখানে বাংলাদেশের স্বার্থও রয়েছে; কিন্তু তা আদায় করা নির্ভর করে কূটনীতি বা দরকষাকষির ওপর। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য অস্ত্র বিক্রি করতে চায়। আর ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে জাপানেরও নজর রয়েছে বাংলাদেশে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণসহ এ দেশে অনেক বিনিয়োগ রয়েছে তাদের। তবে বিদেশিরা বাংলাদেশে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি দেখতে চায় না। আবার আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতায় বসার জন্য বিদেশিদের কতটা জাতীয় স্বার্থ ছাড় দিচ্ছে সাধারণ জনগণ তা নিয়ে চিন্তা করে না। তারা চিন্তা করে সরকার আমেরিকা বা চায়নার দিকে বেশি ঝুঁকে যাচ্ছে কি না।

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের আগ্রহ থাকার কারণেই চলতি সপ্তাহে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত বিএনপির মহাসচিব এবং সংসদে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন। এর আগেও নির্বাচন নিয়ে ইইউ রাষ্ট্রদূত দেশের বড় বড় রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার এক দিনের ঢাকা সফরে আসার কথা রয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র (পূর্ব) সচিব সৌরভ কুমারের। তার এ সফর নিয়ে কূটনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের নাগরিক নিরাপত্তা, মানবাধিকার ও গণতন্ত্রবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জিয়া এবং দেশটির দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু ঢাকা সফর করবেন। যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ের এ দুজন কর্মকর্তার ঢাকা সফরের মূল কারণ আসন্ন নির্বাচন বিষয়ে আলোচনা।

গত ২৪ মে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসানীতি প্রকাশ করে সতর্কবার্তা দেন, ভোটে কেউ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে। ওই ঘোষণার পর জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহে উজরা জিয়া ও ডোনাল্ড লুর আসন্ন সফরকে বেশ গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। কূটনীতিকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের ঢাকা সফরের আগে ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের ঢাকা সফর বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।

গত ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ওই সময় কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ছিল-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলতে পারে ভারত। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের কমন শত্রু চীন এবং বাংলাদেশ চীনের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়লে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর হবে। তবে ওই বৈঠকে বাংলাদেশ কতটা গুরুত্ব পেয়েছে তা এখনও পরিষ্কার নয়। কেননা বৈঠক শেষে যৌথ বিবরণীতে আঞ্চলিক ইস্যুর কথা উল্লেখ থাকলেও স্পষ্টভাবে বাংলাদেশ নিয়ে কোনো তথ্য নেই।

এ ছাড়া নির্বাচন বিষয়ে আগামী ৮ জুলাই ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে প্রাক-নির্বাচনি পর্যবেক্ষক দল বাংলাদেশ সফরে আসার কথা রয়েছে। ইইউর বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত অনেক আগেই জানিয়েছেন, এ নির্বাচনি পর্যবেক্ষক দলটি বেশ স্বাধীন। তারা আসন্ন নির্বাচনের পরিবেশ দেখতে আসছে। দলটি নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলের নেতা, সুশীল সমাজ, নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে বৈঠক করবে। তারা যদি আসন্ন নির্বাচন নিয়ে সন্তোষজনক প্রতিবেদন দাখিল করে তবেই ইইউর পরবর্তী বা চূড়ান্ত প্রতিনিধি দল নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে বাংলাদেশে আসবে।

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মো. তৌহিদ হোসেন এ প্রসঙ্গে সময়ের আলোকে বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বহুমুখী সম্পর্ক। এ পরাশক্তি বাংলাদেশকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাছে পেতে চায়। এ জন্যই চাপে রাখার কৌশল খোঁজে। আমাদের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার দুর্বল বলেই যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচনকে সামনে রেখে ভিসানীতি করেছে এবং তারা কী চায় তা আরও আগেই পরিষ্কার করেছে। এখন মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুর ঢাকা সফরের কথা মিডিয়ায় শোনা যাচ্ছে। তিনি গত জানুয়ারিতেও এসেছিলেন এবং ওই সময়ে মিষ্টি ভাষায় নির্বাচন ও গণতন্ত্র প্রসঙ্গে ওয়াশিংটনের বার্তা দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, আমি নিশ্চিত, ভিসানীতি প্রকাশের পর এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ চলছে। সামনে তা আরও পরিষ্কার হবে।

সাবেক অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব ও রাষ্ট্রদূত মো. মাহফুজুর রহমান এই প্রতিবেদককে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার ক্ষেত্রে হোমওয়ার্ক করে। তারা হুট করে কিছু করে না। বাইডেন প্রশাসন গণতন্ত্র ও মানবাধিকার ইস্যুতে গুরুত্ব দেবে তা আগেই ঘোষণা দিয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় ভিসানীতি প্রকাশ পেয়েছে। আগামীতে এ ক্ষেত্রে দুই পক্ষের আরও এনগেজমেন্ট দেখা যাবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক নুরুল আমি বেপারি এ প্রসঙ্গে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে প্রকৃত গণতন্ত্র দেখতে চায়। এ জন্য তারা আমাদের চাপে রাখার চেষ্টা করে। কী কারণে বাংলাদেশের গণতন্ত্র বিশেষ করে নির্বাচন নিয়ে ইউরোপ-আমেরিকার আগ্রহ আগামী দুয়েক মাসের মধ্যে তা বোঝা যাবে। আরও বোঝা যাবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনীতি কোথায় যাচ্ছে, বিষয়গুলো তখন অনেক পরিষ্কার হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ সাহান বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন ইস্যুতে একাধিক শক্তিশালী রাষ্ট্র আগ্রহী। এরই মধ্যে সরকারকে চাপে রাখতে নিষেধাজ্ঞাসহ ভিসানীতি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশের রাজনীতি নিয়ে কূটনৈতিক মহলে অনেক আলোচনা হচ্ছে। আমার মনে হয়, এ আলোচনা আগামী আগস্ট-সেপ্টেম্বরে স্পষ্ট হবে।

খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন :