1. id69_178fc3@local.host : id69_178fc3 :
  2. shahjahanbiswas74@gmail.com : Shahjahan Biswas : Shahjahan Biswas
  3. ssexpressit@gmail.com : sonarbanglanews :
  4. wp2_de0746@wp2shell.invalid : wp2_de0746 :
রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৪৫ অপরাহ্ন

রাজধানীতে জমে উঠেছে কুরবানির পশুর হাট

  • সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ২৭ জুন, ২০২৩
  • ২১২ বার পড়েছেন

অনলাইন ডেস্ক: বলিউডের জনপ্রিয় সিনেমা ‘বাহুবলি’। এই নামেই এবার কুরবানির হাটে নামকরণ করা হয়েছে গরুর। ক্রেতা-দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করলেও কারও হাতেই বাহুবলির দড়ি তুলে দিতে পারেননি ব্যবসায়ী আরিফ মাহমুদ। গত ছয় দিন আগে রাজধানীর দিয়াবাড়ীর হাটে প্রায় ৯০০ কেজি ওজনের বাহুবলিকে তোলা হলেও এখনও বিক্রি হয়নি। গাবতলীর হাটে এবার ঝড় তুলেছে ‘ডন নাম্বার-১’। এটি এখন পর্যন্ত গাবতলী হাটের সবচেয়ে বড় গরু। দাম হাঁকা হচ্ছে ২৫ লাখ টাকা। তবে বড় গরুতে আকৃষ্ট হলেও মাঝারি সাইজের গরু ক্রেতাদের চাহিদার শীর্ষে। গত কয়েক দিন পশুর হাট ক্রেতাশূন্য হলেও সোমবার সকাল থেকে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় পশুর হাট জমে উঠেছে। পর্যাপ্ত গরুর পাশাপাশি রয়েছে ক্রেতাদের ভিড়। বিকিকিনিও বেশ।

গাবতলীর হাট : সোমবার দুপুর ২টা। রাজধানীর গাবতলী পশুর হাটে ঢুকতেই হাতের বাম পাশে চোখ পড়ে এই হাটের সবচেয়ে বড় গরুগুলো। দেখতেও যেমন সুন্দর, তেমনি রয়েছে নামেরও বাহার। গরুর তুলনায় এখনও দাম না বলায় ব্যবসায়ীদের মন খারাপ। তবু আশা ছাড়েনি, শেষ দিন পর্যন্ত হয়তো কাক্সিক্ষত দাম পাবে। বড় গরুর সঙ্গে ছোট গরু ফ্রি দিচ্ছেন ফরিদপুরের রুবায়েত হোসেন। সময়ের আলোকে তিনি বলেন, এটি এখন পর্যন্ত গাবতলী হাটের সবচেয়ে বড় গরু। গরুর দাম রাখা হয়েছে ডন নম্বর-১। গাবতলী হাটের ‘ডনে’র দাম হাঁকা হচ্ছে ২৫ লাখ টাকা। এই গরু যিনি কিনবেন তাকে উপহার হিসেবে আরও একটি গরু উপহার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন গরুর মালিক রুবায়েত।

ডনের পাশেই রয়েছে হাটের সবচেয়ে বড় মহিষটি। যদিও তার কোনো নাম নেই। মহিষের মালিক মো. শাবান বলেন, গত দুই বছর আগে এই মহিষটি ২ লাখ টাকায় কিনেছি। দুই বছরে আরও ৩ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এ ছাড়া পরিবহন ও হাটের খরচ মিলিয়ে আরও ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তাই মহিষটি বিক্রি খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। মহিষটির দাম চাওয়া হচ্ছে ১৫ লাখ টাকা। ১০ লাখ টাকা হলে বিক্রি করবে। এখন পর্যন্ত ৭ লাখ টাকা বলেছে। মহিষের পাশেই রয়েছে রাজবাড়ীর ‘কালা মানিক’ তার দাম হাঁকা হচ্ছে ১৫ লাখ টাকা। গরুর মালিক সিরাজুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত ৮ লাখ টাকা বলেছে। আর একটু হলে ছেড়ে দেব।

গাবতলী পশুর হাটের ম্যানেজার আবুল হাশেম সময়ের আলোকে বলেন, আজকে (গতকাল) থেকে কুরবানির পশু বিক্রি শুরু হয়েছে। হাটে পর্যাপ্ত পশু আছে। দামও তুলনামূলকভাবে হাতের নাগালেই আছে। এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চারশ গাড়ি পশু এসেছে। গাড়ির হিসেব অনুযায়ী এই মুহূর্তে হাটে গরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়া মিলিয়ে প্রায় ৯ হাজার পশু আছে।

হাট ঘুরে সরেজমিন দেখা যায়, দরকষাকষি করছে ক্রেতারা। দাম নিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ক্রেতারা বলছে, হাটে পর্যাপ্ত পশু থাকলেও দাম ছাড়ছে না বিক্রেতারা। আবার বিক্রেতারা কেউ কেউ বলছে, গরু প্রতি ১০ হাজার টাকা লসে বিক্রি করতে হচ্ছে। কুষ্টিয়ার বেপারি কামরুল ইসলাম বলেন, তিনটি গরু নিয়ে হাটে এসিছিলাম। দুটি ১০ হাজার টাকা লসে বিক্রি করছি। এখন একটি আছে। এটিও লসে বলতেছে। ওই হাটে ‘বাহাদুর’ নামে একটি গরু ক্রেতা-দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করছে। বিক্রেতা মো. মোশাররফ হোসেন গরুটির দাম চাইছেন ৮ লাখ টাকা।

দিয়াবাড়ী : কুরবানির পশুর সমাগম বাড়তে শুরু করেছে উত্তরার দিয়াবাড়ীর পশুর হাটে। মেট্রোরেলের উত্তরা উত্তর স্টেশনের পাশেই বিস্তীর্ণ খোলা মাঠে পশুর তিল ধারণের ঠাঁই নেই। খালি মাঠে স্থান না পেয়ে অনেকেই আবার রাস্তার সঙ্গেই খুঁটি গেড়ে পশু বেঁধে রেখেছেন। সোমবার দুপুরে সরেজমিন দিয়াবাড়ীর কুরবানির পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, বিক্রেতাদের হাঁকডাকে অনেকটাই জমে উঠেছে পশুর হাট।

রাজশাহী থেকে ২০টি গরু নিয়ে দিয়াবাড়ীর হাটে এসেছেন মোক্তার হোসেন (৩৭)। তিনি বলেন, দুদিন তেমন কেনাবেচা হয়নি। আজ (গতকাল) থেকে ক্রেতাদের সমাগম কিছুটা বেড়েছে, দুটি গরু বিক্রি করতে পেরেছি। আশা করছি ঈদের আগেই সব গরু বিক্রি হয়ে যাবে। দুপুর গড়িয়ে বিকালের দিকে হাটে ক্রেতাদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। জামালপুর থেকে দিয়াবাড়ীর পশুর হাটে আসা শরিফুল ইসলাম (৩৩) বলেন, আমি ১৭টি গরু নিয়ে এসেছি, মাত্র ১টি গরু বিক্রি করতে পেরেছি। হাটে অনেক গরু এসেছে, হাটের অবস্থা অনেক ভালো। তবে ক্রেতারা দাম কম বলার কারণে বেচাবিক্রি কম।

মেট্রোরেলে সঙ্গেই দিয়াবাড়ীর পশুর হাট হওয়ায় অন্যবারের চেয়ে ক্রেতা সমাগম একটু বেশি দেখা যায়। হাট থেকে দুটি গরু কিনেছেন তারা মিয়া (৫৫)। তিনি বলেন, অন্যবারের চেয়ে এবারে গরুর দাম একটু বেশি। তবে অন্য হাটের চেয়ে দিয়াবাড়ীতে মনে হচ্ছে একটু কম। গরু কিনতে আসা মহসিন আক্তার বলেন, ইচ্ছে করেই বেপারিরা গরু ছাড়ছে না, দামও বেশি বলছে, সবকিছুই মনে হচ্ছে সিন্ডিকেট। দেখি ঘুরে-ফিরে দরদামে মিললে গরু কিনতে পারব।

সন্ধ্যার দিকে বিক্রেতা ও ক্রেতাদের দরদামে বেশ জমে উঠে দিয়াবাড়ীর পশুরহাট। মামা-ভাগনের দাম ১২ লাখ টাকা বলে চিৎকার করে ক্রেতাদের ডাকতে থাকেন ঝিনাইদহ থেকে ১২টি গরু নিয়ে আসা আতিয়ার রহমান। তিনি সময়ের আলোকে বলেন, এলাকায় গরুর দাম বেশি ছিল, হাটে ক্রেতারা অনেক কম দাম বলছেন। আশা ঈদের আগে দাম ও বেচাবিক্রি বাড়বে।

গতবারের চেয়ে এবার দিয়াবাড়ীর হাটে গরু, ছাগল, ভেড়াসহ কুরবানির পশুর সংখ্যা বেড়েছে বলে জানান এক নম্বর হাসিলে থাকা কর্মকর্তা আক্তার হোসেন। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ২০ হাজারের বেশি গরু ও ২ হাজারের বেশি ছাগল হাটে এসেছে। ক্রেতাদের সমাগম বাড়ছে, ভালো বেচাবিক্রি হচ্ছে।

আফতাবনগর : বিশাল এলাকাজুড়ে রাজধানীর আফতাবনগরে গরুর হাট বসেছে। হাট ঘুরে প্রচুর পরিমাণে গরু দেখা গেছে। ক্রেতাদেরও ভিড় বেড়েছে। তবে বিক্রেতারা প্রতিটি গরুর দাম বেশি চাচ্ছেন। বিশেষ করে মাঝারি সাইজের গরুর দাম অতিরিক্ত হাঁকছেন বিক্রেতারা।

ধোলাইখাল :  পুরান ঢাকার নবাবপুরের বাসিন্দা সালাউদ্দিন তার ছেলে সাজ্জাদকে সঙ্গে নিয়ে সোমবার বেলা ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত ধোলাইখাল ট্রাক টার্মিনাল পশুর হাটে ঘুরেছেন গরু কেনার জন্য। তার বাজেট ছিল দেড় লাখ টাকা। কিন্তু কোনোভাবেই বনিবনা হচ্ছিল না। অবশেষে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে চাহিদা অনুযায়ী ৫ মণ ওজনের গরু কিনে বেজায় খুশি। তিনি সময়ের আলোকে বলেন, কয়েকটি বাজার ঘুরেছি কিন্তু বাজেট মতো পাচ্ছিলাম না। অবশেষে ৪-৫ ঘণ্টা ঘুরে কিনতে পেরেছি। এই গরমের মধ্যে কষ্টটা সার্থক হয়েছে। আর ৩০টি গরুর মধ্যে প্রথম গরু বিক্রি করে খুশিতে আত্মহারা চুয়াডাঙ্গার ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম। তিনি জানান, এ গরুর দাম চেয়েছিলাম ১ লাখ ৯০ হাজার। দুদিন ধরে এখানে আছি কিন্তু কোনো গরু বিক্রি করতে পারিনি। তাই প্রথমবারের মতো বিক্রি করতে পেরে কিছুটা ভালো লাগছে।

ধোলাইখাল ট্রাক টার্মিনাল পশুর হাটে দিনভর ক্রেতা-বিক্রেতাদের অনেককেই দরকষাকষি করতে দেখা গেছে। তবে ক্রেতার অভিযোগ, গরুর দাম বেশি চাচ্ছে। কিন্তু বিক্রেতারা বলছেন, বাজার জমলেও চাহিদা অনুযায়ী দাম বলা হচ্ছে না। তাই বিক্রিও কম হচ্ছে। তবে সামনের দিনগুলোতে বিক্রি আরও বাড়বে বলেও জানিয়েছে।

হাট ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে প্রচুর গরু যা রায়সাহেব বাজার থেকে দয়াগঞ্জ মোড় হয়ে লোহারপুল এলাকা পর্যন্ত ছাড়িয়ে গেছে।  রাস্তার দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে বাঁশের খুঁটিতে বাধা গরুর দীর্ঘ সারি। মূল হাটের নির্ধারিত স্থানের বাইরে পাড়া-মহল্লায় এবং বিশাল আকারের ছাউনির নিচে খুঁটি দিয়ে গরু বেঁধে রাখা হয়েছে। রাস্তার দুই পাশে হাট বসার ফলে বিপাকে পড়েছেন ব্যাংক-বীমা ও বিভিন্ন দোকান মালিকরা। নির্ধারিত সময়ের আগেই রাস্তা বন্ধ করে হাট বসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকেই। এমনকি এসব এলাকায় তীব্র যানজটের কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষসহ আশপাশের বাসিন্দাদের। তাদের একজন ধোলাইখালরে বাসিন্দা মুনতাজ আহমেদ। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার বাসার সামনে তাঁবু টাঙিয়ে গরু বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাসা থেকে বেরও হওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। ময়লা-আবর্জনার গন্ধে বাসায় টেকা দায় হয়ে পড়েছে। আমরা এমন একটা অবস্থার মধ্যে আছি কাউকে কিছু বলাও যায় না।

গত শুক্রবার এ হাটে রাজশাহীর পুটিয়া থেকে ১৬টি গরু নিয়ে এসেছেন নুরু বেপারি। এখন পর্যন্ত একটিও বিক্রি হয়নি। তিনি বলেন, আমার ৫ মণ ওজনের একটি গরু দাম চাচ্ছি ১ লাখ ৯০ টাকা। কিন্তু ক্রেতারা বলছে ১ লাখ তাই লোকসান দিয়ে তো বিক্রি করা সম্ভব না। রফিউল ইসলাম নামের এক ক্রেতা বলেন, ৮০-৯০ হাজার টাকার গরু যদি দেড় লাখ টাকা চায় তা হলে কিনব কীভাবে?

টিএস ডেইরি ফার্মের মালিক আরমান হোসেন বলেন, ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী দাম বলছে না। সবকিছুর সঙ্গে গরুর খাদ্যেরও দাম বাড়ছে। আগে এক কেজি ভুসি পাওয়া যেত ৪০ টাকায়, সেটি এখন ৭০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। একটা গরু ছয় মাস লালন-পালন করলে ৫০-৬০ হাজার খরচ হয়। এখন লাভ বাদ দিলাম যদি খরচই না উঠে তা হলে কীভাবে বিক্রি করব।

টঙ্গী : টঙ্গীতে এবার নতুন হাট বসেছে সাতাশ এলাকায়। হাটের মূল সমন্বয়ক মো. রনি বলেন, টঙ্গীবাসীর ভোগান্তি কমাতে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে গরুর হাটটি বসানো হয়েছে। এই হটে ৮ শতাধিক গরু তোলা হয়েছিল রোববার। তার মধ্যে প্রায় ৩শ গরু বিক্রি করেছে ব্যবসায়ীরা। তিনি বলেন, টঙ্গীর বিসিক এলাকায় যে হাট করা হয়েছে ওই হাটে মানুষ চলাচলে বিঘœ ঘটনায় এবার সাতাশ হাটটি নতুনভাবে গড়ে তোলা হয়েছে। অন্যান্য হাটের তুলনায় এই হাটে হাসিলও কম ধরা হয়েছে। হাটে প্রায় সব গরুই মাঝারি সাইজের। যার ফলে ক্রেতারা ভিড়ছেন বেশি। দামও ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে।

আশুলিয়া : রাজধানী লাগোয়া আশুলিয়ায় এবারও বড় গরুর হাট বসেছে। ওই হাটে বেশিরভাগই আশপাশের এলাকার গরু। সেখানেও ক্রেতারা মাঝারি সাইজের গরু নিচ্ছেন। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার গরুর দাম বেশি বলে জানিয়েছেন ক্রেতা আসলাম মাহমুদ। তিনি বলেন, গত বছর যে গরু ৮০ হাজার টাকায় কিনেছেন সেটি এ বছর ৩০ হাজার টাকা বেশি মূল্যে কিনেছেন। ১ লাখ ১০ হাজার টাকার গরু আকারে খুবই ছোট।

খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন :