
অনলাইন ডেস্ক: ধর্মপ্রাণ মুসলমানের জীবনে পরিবর্তনের আলোকবর্তিকা নিয়ে এসেছিল পবিত্র মাহে রমজান। রাত জেগে তারাবি-তাহাজ্জুদ ও দিনভর সিয়াম সাধনায় ইবাদতের একটি অভ্যাসে জড়িয়েছেন মুসলমানরা। পবিত্র রমজানের ইতিবাচক সে বিষয়গুলো জীবনভর ধরে রেখে সব ধরনের গুনাহের কাজ থেকে নিজেদের বিরত রাখতে পারলেই সামনের সময়গুলো হবে সফল ও সার্থক। রমজান চলে গেলেও রমজান-পরবর্তী কিছু করণীয় রয়ে গেছে। রমজানের প্রভাব ধরে রাখতে এসব অনুশীলন অব্যাহত রাখা জরুরি।
উত্তম আমলগুলো চলমান রাখা: পবিত্র রমজানে অতিরিক্ত যেসব আমল আমরা শুরু করেছিলম, সেগুলো যেন রমজানের পর বন্ধ না হয়ে যায় এবং যেসব গুনাহের কাজ ও বদভ্যাস রমজানে ত্যাগ করেছিলাম সেগুলো যে রমজানের পর আবার চালু না হয়ে যায়। নিয়ত করলেই যে আমরা বদভ্যাস ছেড়ে দিতে পারি এর অনন্য প্রমাণ ছিল রোজা। যেমন-একজন ধূমপায়ী কিন্তু রোজা রাখতে গিয়ে রোজার দিনে ধূমপান করেননি। তার মানে তিনি চাইলেই ধূমপান ছেড়ে দিতে পারেন। তাই রমজান-পরবর্তী আমাদের উচিত নেক কাজগুলো চালিয়ে যাওয়া এবং গুনাহের কাজগুলো থেকে দূরে থাকা।
ছুটে যাওয়া রোজার কাজা: অসুস্থ ব্যক্তি ও মুসাফিরের জন্য রমজানের রোজা ছাড়ার অনুমতি আছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাসটিতে (রমজানে) উপস্থিত হবে, সে যেন তাতে সিয়াম পালন করে। তবে যে ব্যক্তি অসুস্থ বা মুসাফির সে অন্য দিনে সংখ্যা পূরণ করে নেবে, আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান, কঠিন করতে চান না’ (সুরা বাকারা : ১৮৫)। মুসাফির এবং অসুস্থ ব্যক্তির মতো হায়েজ ও নেফাজগ্রস্ত নারীর জন্যও রোজা ছাড়ার অনুমতি আছে। তেমনি নিজের অথবা সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী নারীরও রোজা ছাড়ার অনুমতি আছে। এসব কারণে যারা রমজানের রোজা ছেড়েছেন তাদের সেই ছুটে যাওয়া রোজাগুলো আদায় করে নেওয়ার সবচেয়ে উপযোগী সময় হলো রমজান-পরবর্তী শাওয়াল মাস। বিলম্বে আদায় জায়েজ হলেও যত দ্রুত সম্ভব আদায় করে নেওয়া উচিত। কেননা প্রয়োজনীয় সময় পেয়েও তা আদায় না করলে এমতাবস্থায় মৃত্যু হলে রোজা ছেড়ে দেওয়ার জন্য গুনাহগার হয়ে মৃত্যুবরণ করতে হবে।
রমজানের কাফফারা আদায়: মুসাফির এবং অসুস্থ ব্যক্তির মতো যাদের জন্য রোজা ছাড়ার অনুমতি ছিল, তারা ব্যতীত অন্য কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার বা স্ত্রী সম্ভোগের মাধ্যমে একটি রোজাও ছাড়েন তা হলে এর জন্য কাজা ও কাফফারা উভয়ই আদায় করতে হয়। রোজার কাফফারা হলো বিরতিহীনভাবে ৬০টি রোজা রাখা কিংবা ৬০ মিসকিনকে দুই বেলা পেট পুরে খাদ্য দেওয়া।
শাওয়ালের ছয় রোজা: রমজানের পরপরই শাওয়ালের ছয় রোজা পালন করা মুস্তাহাব। শাওয়ালের রোজার ব্যাপারে একাধিক হাদিসে উৎসাহ এসেছে। রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল অতঃপর শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখল, সে যেন সারা বছরই রোজা রাখল’ (মুসলিম : ২/৮২২)। আল্লাহ তায়ালা তওফিক দান করুন, যেন বছরের বাকি সময়গুলোতেও এ পরিবর্তনের প্রভাব ধরে রাখতে পারি।
Leave a Reply