
শাহজাহান বিশ্বাস:পাটুরিয়া ঘাটে ফেরি পারের অপেক্ষমান যানবাহনের দীর্ঘ লাইন।ভোগান্তিতে পড়ছেন দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলগামী যানবাহনের যাত্রীরা। নদীতে প্রবল স্রোত,ঘাট এলাকায় নদী ভাঙনের কারণে বিগত কয়েকদিন ধরে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটের ফেরি সার্ভিস।ফলে ফেরি পার হতে আসা যাত্রীবাহী বাসগুলোকে ৩/৪ ঘন্টা এবং পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে ১দিন অপেক্ষার পর ফেরি পার হতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যানবাহন শ্রমিকরা। এমতাবস্থায় পাটুরিয়া ঘাটে যাত্রী এবং যানবহান শ্রমিকদেরকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
পদ্মা সেতু চালু হয়ার পর রাজবাড়ি,ফরিদপুর, মাগুরা, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহসহ পশ্চিমাঞ্চরের অনেক জেলার যানবাহন এখনও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে চলাচল করে থাকে। বিশেষ করে ট্রাক চলকরা একটু বিশ্রামের জন্য সেতু না হয়ে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট হয়েই যাতায়াত করে থাকে। কিন্তুু ঘাটে নদী ভাঙন থেকে শুরু করে নানাবিধ সমস্যার কারণে তাদেরকে পড়তে হচ্ছে অপেক্ষার বিড়ম্বনায়। ফেরি পার হতে আসা পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে পাটুরিয়া ফেরি টার্মিনালে ১দিন অপেক্ষার পর মিলছে ফেরির নাগাল।
বিআইডব্লিউটিসি’র আরিচা অফিস সুত্রে জানা গেছে, নদীতে প্রবল স্রোতের কারণে ঘুর পথে চলাচল করতে হচ্ছে ফেরিগুলোকে। এতে যাতায়াতে আগের চেয়ে দ্বিগুণ সময় বেশী লাগছে। ফেরির ট্রিপ সংখ্যা কমে গিয়ে গাড়ি পারাপার কম হচ্ছে। নদীতে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে পাটুরিয়া লঞ্চ ও ফেরি ঘাট এলাকায় দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন। ২০০১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারী পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি সার্ভিস চালু হওয়ার পর কোটি কোটি টাকা খরচ করে পাটুরিয়াতে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করেন বিআইডব্লিউটিএ’র প্রকৌশল বিভাগ।ফেরি লোড-আনলোডের জন্য ৫টি ঘাট নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে ১ ও ২ নং ঘাট ব্যাবহার না করায় ঘাট দু’টি চলে যায় বালু ব্যাবসীয়দের দখলে। ফেরি লোড-আনলোডের জন্য ৩, ৪ ও ৫ নং ঘাট ব্যাবহার করা হতো। সম্প্রতি পাটুরিয়াতে নদী ভাঙ্গনের কারণে গত ১৪ আগস্ট ৫ নং ফেরি ঘাট দুই দিন বন্ধ থাকে এখনও পুরোপুরো চালু হয়নি ওই ঘাটটি। এরপর গত ১৬ আগস্ট ৪নং ঘাটের হাই ওয়াটার লেবেলের এ্যাপ্রোচ রাস্তাটি নদীতে ভেঙ্গে গেছে। ৩ নং ঘাটের পন্টুনের ২টি র্যামের মধ্যে ১টি র্যাম দিয়ে গাড়ি লোড-আনলোড হচ্ছে। অন্য র্যামটি বন্ধ রয়েছে। এ তিনটি ঘাটে এখনও রয়েছে নদী ভাঙ্গনের ঝুঁকি। গত ৫ আগস্ট আরিচা লঞ্চ ঘাটটি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। চরম ঝুঁকিতে রয়েছে লঞ্চ ঘাটের যাত্রী ছাউনিটি। এসব কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয় নৌরুটে স্বাভাবিকভাবে ফেরি চলাচল চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে। ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে যাত্রী ও যানবাহন শ্রমিকদেরকে।
মঙ্গলবার সরজমিনে পাটুরিয়া ঘাট ঘুরে যেটা দেখা গেছে, পাটুরিয়া ঘাটে ট্রার্মিনালে কমপক্ষে ২শ’ পণ্যবাহী টাক ফেরি পারের অপেক্ষায় রয়েছে।ঘাট এলাক থেকে পাটুরিয়া-ঢাকা মহাসড়কের দু’পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সাড়ি দেখা গেছে। এক সাড়িতে যাত্রীবাহী বাস অপর সাড়িতে পণ্যবাহী ট্রাক রয়েছে। ফেরি পার হতে ঘাটে আসা এসব যানবাহনগুলোকে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
পাটুরিয়া ট্রাক টার্মিনাল থেকে গাড়ি বের হওয়ার পথে এবং ফেরিতে ওঠার সময় পন্টুন এলাকায় নেই কোন ট্রাফিক ব্যাবস্থা। ট্রাক শ্রমিকদেরকে নিয়ন্ত্রণের জন্য দুপুরের দিকে এসব এলাকায় কোন ট্রাফিক পুলিশ ও আনসারবাহিনীকে দেখা যায়নি। ফলে এসব স্থানে চলছে চরম বিশৃংখলা।টার্মিনাল থেকে গাড়ি বের হওয়ার পথে কোন ট্রাফিক ব্যবস্থা না থাকায় ট্রাক শ্রমিকরা কোন সিরিয়াল মানছে না। এরা পারাপারি এবং হুরমুর করে এক সাথে টার্মিনাল থেকে বের হয়ে ফেরিতে ওঠার চেষ্টা করছে। এতে এক গাড়ির সাথে আরেক গারির সংঘর্ষ হচ্ছে ও চাপ লেগে গাড়ির গ্লাস ভেঙ্গে যাচ্ছে এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা করছেন অনেকে। এনিয়ে প্রতিনিয়তই ট্রাক শ্রমিকদের মধ্যে জটলা বাঁধছে। মঙ্গলাবার দুপুরে ৪নং ঘাট এলাকায় দেখা গেছে, ফেরিতে গাড়ি লোড-আনলোডের রাস্তায় নেই কোন ট্রাফিক ব্যবস্থা। ছোট-বড় সকল প্রকার গাড়িই এলোমেলোভাবে রাখা হয়েছে। এতে ঘাট এলাকায় বিশৃংখলার সৃষ্টি হয়ে ফেরি লোড-আনলোডে বিঘ্ন ঘটছে। এখানেও কোন ট্রাফিক পুলিশ এবং আনাসারবাহিনীকে দেখা যায়নি।
ট্রাক চালক মো. আবুল হোসেন বলেন, গত রবিবার রাতে ঢাকা থেকে রওয়ানা দিয়ে পাটুরিয়া ঘাটে এসে পৌঁছাই।পাটুরিয়া ট্রাক টার্মিনালে ২৪ ঘন্টা ধরে ফেরি পারের অপেক্ষায় রয়েছি। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট ) দুপুরেও ফেরির নাগাল পাননি তিনি। এভাবে যদি আবার ১/২দিন ঘাটে বসে থাকতে হয় তাহলে একদিকে সময় মতো মালামাল পৌঁছে দিতে পারছি না অপরদিকে আমাদের খরচও বেড়ে যাচ্ছে।
ট্রাক চালক আক্কাস আলী বলেন, আমি সোমবার সন্ধ্যা ৮টায় পাটুরিয়া ঘাটে ফেরি পারাপারের জন্য অপেক্ষা করছি। একবার বৃষ্টিতে ভিচ্ছি আবার রোদে পুরছি, জীবনটা শেষ। দুইটা দিন ধরে এখানে রোদে পুরছি আমাদের ফেরি কর্তৃপক্ষের একটু সহানুভুতি দেখানো উচিত।
বিআইডব্লিউটিসি’র আরিচা আঞ্চলিক কার্যালয়ের ডিপুটি জেনারেল ম্যানেজার ভারপ্রাপ্ত আব্দুস সালাম বলেন, নদীতে প্রবল স্রোতের কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি সার্ভিসের এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে ৯টি রো-রো এবং ২ ছোট ফেরি রয়েছে এ নৌরুটে। আশা করি স্রোত কমে গেলে সব ঠিক হয়ে যাবে বলে তিনি জানান।
Leave a Reply