
নিজস্ব প্রতিবেদক: মানিকগঞ্জের শিবালয়ে মাংস বিক্রির উদ্দেশ্যে পেটে বাচ্চাসহ গা.ভী গরু জ.বা.ই করেছে মো.রেজাউল কসাই।খবর পেয়ে স্থানীয়রা এ মাংস আটকিয়ে দেয় এবং পুলিশে খবর দিলে শিবালয় থানা পুলিশ আরিচা ঘাটে মাংসের দোকান থেকে রেজাউল কসাইয়ের ছেলে সাগর কসাইকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
শনিবার (১০ মে ) সকালে আরিচা ঘাটে মাছের আড়ত সংলগ্ন মাংসের দোকানে এ ঘটনা ঘটে।
শিবালয় বন্দর ব্যবসায়ী সমাজ কল্যাণ সমিতি’র সদস্য মো. আমির হোসেন বলেন, আরিচা ঘাটের রেজাউল কসাই বাজারে মাংস বিক্রি করার জন্য শনিবার ভোরে একটি গাভী গরু জ.বা.ই করলে সে গাভীর পেট থেকে বাছুর (বাচ্চা) বের হয়।এসময় স্থানীয়রা এসব দেখে আমাদেরকে খবর দিলে আমরা মাংস বিক্রি করতে নিষেধ করি এবং ওই মাংস আটকিয়ে রাখা হয়। এক পর্যায়ে থানা থেকে পুলিশ এসে রেজাউল কসায়ের ছেলে সাগরকে আটক করে।
শিবালয় বন্দর ব্যবসায়ী সমাজ কল্যাণ সমিতি’র ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এসএম রাজু হোসেন বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে শিবালয়ের মাংস ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মানুষ প্রতারিত হয়ে আসছে।এরা মাঝে মধ্যেই ভাল গরু দেখিয়ে পেটে বাচ্চা আছে এবং অসুস্থ্য ও খাবার অযোগ্য গরু জ.বা.ই করে মাংস বিক্রি করছে। দুর দুরান্ত থেকে যে সব মাংস ক্রেতারা আসেন তারও এদের প্রতি আস্থাহীনতায় ভুগেন।এসব কসাইরা বিভিন্ন সময় দুর থেকে জ.বা.ই করে এনে মাংস বিক্রি করে, সেটা জীবিত না মৃত তা আমরা সনাক্ত করতে পারিনা।গরু জ.বা.ই.য়ে.র সময় হুজুর থাকার কথা থাকলেও অনেক সময় হুজুর ঘুমে থাকে এবং ফোনে ফোনে বলে দেয় পরে এসে হুজুর টাকা নিয়ে যায়। এ সুযোগটাও মাংস ব্যবসায়ীরা কাজে লাগাচ্ছে। যে কারণে মাংস বিক্রি উদ্দেশ্যে যে গরুটি জ.বা.ই দেয়া হয় সেটি সুস্থ্য কিনা তা আমরা সনাক্ত করতে পারছি না। ফলে এখানে সঠিক নিয়মে গরু জ.বা.ই হচ্ছে না বলে জানান তিনি।এর আগেও এরকম অনেক ঘটনা ঘটিয়েছে ওরা।আর যাতে এরকম কাজ ওরা না করতে পারে সে জন্য আমরা এর দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।
অভিযুক্ত কসাই রেজাউল জানান, গত শুক্রবার আরিচা গরু হাট থেকে ৭৭ হাজার টাকা দিয়ে বকনা গরু মনে করে কিনা হয়।পেটে বাচ্চা আছে এটা আমার জানা ছিল না। জানলে কিনতাম না। জ-বা-ই করার পর পেট থেকে বাচ্চা বের হয়।স্থানীয়দের বাধার কারণে জবাই করা গরুর মাংস বিক্রি বন্ধ করে দেয়।
শিবালয় থানার অফিসার ইনচার্জ মো. কামাল হোসেন বলেন, এ ঘটানায় একজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়।পরবর্তিতে উপজেলা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মোবাইল কোর্ট করে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হলে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।
শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাকির হোসেন জানান, অভিযুক্ত মাংস ব্যবসায়ীকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আর ওই মাংসগুলোকে মাটির নীচে পুতে বিনষ্ট করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও গত ১৪ জুলাই ২০২৪ সালে আরিচা ঘাটের ওই মাংস ব্যবসায়ীরা পেটে বাচ্চাসহ একটি গরু জ.বা.ই করলে স্থানীয়রা তা আটক করে।পরবর্তিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুরূপ জরিমানা করে এবং মাংস মাটিতে পুতে বিনষ্ট করা হয়।
Leave a Reply