
অনলাইন ডেস্ক: সচিবালয়ের এক নম্বর ভবন এখনও ঝুঁকিপূর্ণ। এ ভবনে রয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। গুরুত্বপূর্ণ এ ভবনে প্রধানমন্ত্রী অফিস করতেন। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এখন প্রধানমন্ত্রী অফিস করেন ৬ নম্বর ভবনে।
১৯৩৯ সালে নির্মিত এ ভবনটিতে পরবর্তী সময়ে সমীক্ষা চালানো হয়। তখন বলা হয়েছিল, এটি ভূমিকম্প সহনীয় নয়। ১৯৪৭ সালে নির্মিত ৫ নম্বর ভবনটিরও একই অবস্থা। সেই প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে সচিবালয়ে নতুন করে আরও একটি ২০ তলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। ২০১৮ সালে একনেক সভায় অনুমোদিত এ ভবনটির নির্মাণকাজ ২০২০ সালের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আবার দুবার মেয়াদ বাড়ানো হয়। অর্থাৎ আগামী ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে এ ভবনের নির্মাণকাজ শেষ করা হবে। শর্ত ছিল কোনো ধরনের ব্যয় বাড়বে না। কিন্তু এবার ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। কারণ দেখিয়েছে, নতুন অঙ্গ সংযোজন।
এদিকে আজ প্রকল্প মূল্যায়ন সভা হতে যাচ্ছে। এতে সভাপতিত্ব করবেন পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য ড. মোহাম্মদ এমদাদউল্লাহ মিয়ান। তবে পরিকল্পনা কমিশন এ ব্যাপারে ১০টির বেশি মতামত দিয়েছে। প্রথমেই উল্লেখ করা হয়েছে, অফিস ভবনের বর্গফুটপ্রতি ব্যয় ছিল ৬ হাজার ৩৬৫ টাকা। কিন্তু বর্তমানে বর্গফুটপ্রতি ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৬৩০ টাকা। ইউটিলিটির ভবনের প্রতি বর্গফুট ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৩৯২ টাকা, যা পরিল্পনা কমিশনের কাছে বেশি মনে হয়েছে।
নতুন ভবনের জন্য এসি কিনতে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ১ হাজার ৬৭৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, যা আগে ধরা হয়েছিল ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। মুর্যাল বাবদ প্রথমে ধরা হয়েছিল ১ কোটি টাকা। বর্তমানে প্রস্তাব করা হয়েছে ২ কোটি ১৮ লাখ টাকা। আসবাবপত্র কেনার জন্য ‘থোক’ রাখা হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত কত টাকা তা উল্লেখ করা হয়নি।
নতুন ভবনের জন্য সাব-স্টেশন, জেনারেটর, লিফট, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, সিসি ক্যামেরা সিস্টেম, কনফারেন্স সিস্টেম, পিবিএক্স, সোলার সিস্টেমসহ আরও বেশ কিছু ক্ষেত্রে বিস্তারিত ব্যয় বিভাজন দেখানো হয়নি বলে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন।
যদিও ব্যয় বাড়ানোর যুক্তি দেখিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক। তিনি জানান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চাহিদা অনুযায়ী চূড়ান্ত স্থাপত্য নকশায় ভবনের অভ্যন্তরে রুম সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। রুম সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ইটের গাঁথুনি থেকে শুরু করে চৌকাঠ পর্যন্ত পরিমাণ দিক থেকে বেড়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রীর দফতর ও কেবিনেট মিটিং রুমের জানালাসহ কিছু অপরিহার্য কাজের জন্য বিশেষ ব্যয় ধরা হয়েছে। তিনি আরও জানান, চার তলা ইউলিটি ভবন অন্তর্ভুক্তকরণ, অভ্যন্তরীণ রাস্তার জন্য ব্যয় বৃদ্ধি, মূর্যালের জন্য ব্যয় বৃদ্ধিসহ আরও কিছু বিষয়ে ব্যয় বৃদ্ধির কারণে টাকার পরিমাণ বেড়ে গেছে। এদিকে এ পর্যন্ত এ ভবনের কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ৩৪ শতাংশ। আর অর্থের দিক থেকে ৩১ শতাংশ।
এ ব্যাপারে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, সচিবালয় প্রাঙ্গণে বেশিসংখ্যক মন্ত্রণালয় ও বিভাগের স্থান সংকুলানের জন্য এ ২০ তলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ে মোট ১০টি ভবন রয়েছে। এর ৮টি স্বাধীনতা পূর্বকালে নির্মিত। এ ছাড়া ৮টি টিনশেড এক তলা ভবনেও বিভিন্ন দফতরের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে। স্বাধীনতা উত্তরকালে মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় চাহিদা মেটাতে ১৯৯১ সালে ২১ তলাবিশিষ্ট একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়। এখন চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে নতুন করে ২০ তলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, সচিবালয়ে বর্তমানে বিদ্যমান স্থাপনাগুলো ব্যবহারকারীর চাহিদা পূরণে সক্ষম হচ্ছে না। গত এক দশকে বেশ কিছু মন্ত্রণালয় ও বিভাগ গঠন হওয়ার পর এ সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এ ছাড়া ১ ও ৫ নম্বর ভবন ভূমিকম্প থেকে ঝুঁকিমুক্ত নয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ শাহজাহান বিশ্বাস
অফিস : আরিচা, শিবালয়, মানিকগঞ্জ-১৮০০
মোবাইল : +৮৮০ ১৭১১ ৭৩৩ ৬৫১, ই-মেইল : sbnews74@gmail.com