
অনলাইন ডেস্ক: একদিকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার, অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলন কর্মসূচি ঘিরে নাশকতা। এর মধ্যে আর একদিন পর থার্টিফার্স্ট নাইট। বছরের শেষ দিন থার্টিফাস্ট নাইটে কোনো ধরনের নাশকতার ঘটনা যেন না ঘটতে পারে তার জন্য প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বিএনপির একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দলটি আজ শনিবার নতুন বছরে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবে। নতুন আন্দোলন কর্মসূচিতে আত্মগোপনে থাকা বিএনপি নেতাকর্মীরা মাঠে নামার কথা রয়েছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধান দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে থার্টিফার্স্ট নাইটকে নিরাপদ রাখা। আন্দোলনের ডাক দিয়ে নতুন বছর শুরুর আগের রাতে রেলসহ অন্য যানবাহনে যেন কোনো ধরনের নাশকতা করা না হয় তার জন্য কঠোর নজরদারি করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ জন্য থার্টিফার্স্টের দিন বিকাল থেকে দেশের বিভিন্ন রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ রাজধানীর প্রবেশ পথগুলোয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ ও র্যাব।
এদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে শুক্রবার থেকে রাজধানীসহ সারা দেশে পুলিশের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নসহ (এপিবিএন) অন্য বাহিনীর সদস্যরা মাঠে নেমেছেন। উপকূলীয় নির্বাচনি এলাকার নিরাপত্তায় গতকাল থেকে টহল শুরু করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।
গতকাল থেকে মেট্রোরেল স্টেশনেও র্যাব সদস্যদের ব্যাপক টহল দিতে দেখা গেছে। এ ছাড়াও নাশকতা প্রতিরোধে ডগ স্কোয়াড, স্ট্রাইকিং ফোর্সসহ ১০ ভাবে কাজ শুরু করেছে র্যাব। পথে পথে তল্লাশি, বিভিন্ন মার্কেট, রেলস্টেশন, বাসস্টেশনে টহল বাড়ানো হয়েছে।
বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম সময়ের আলোকে বলেন, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় শুক্রবার থেকে ১ হাজার ১৫১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
বিজিবির অন্য একটি সূত্র জানায়, নাশকতার বিরুদ্ধেও কাজ করবেন বিজিবি সদস্যরা। থার্টিফার্স্ট নাইটেও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিপুলসংখ্যক বিজিবি সদস্যরা টহল দেবেন। বিজিবি সদস্যরা আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে কাজ করবেন।
এদিকে থার্টিফার্স্ট নাইটকে কেন্দ্র করে দেশে দেশে নানা ধরনের আয়োজন করা হয়। রাতটিতে আনন্দ-উৎসবকে কেন্দ্র করে নানা অঘটনও ঘটে। গত কয়েক বছর ধরে ফানুসের আগুনে অনেক বাড়িঘর ও স্থাপনা ভস্মীভূত কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আতশবাজির শব্দে শিশুর প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। এবার জাতীয় নির্বাচনের আগ মুহূর্তে থার্টিফার্স্ট হওয়ায় সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জিং মনে করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
থার্টিফার্স্ট নাইটের নিরাপত্তায় ডিএমপির পক্ষ থেকে কিছু বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-থার্টিফার্স্ট নাইটে ফানুস না ওড়ানো, আতশবাজি এবং উন্মুক্ত স্থানে অনুষ্ঠান করা যাবে না। গত বছর ফানুসের আগুনে মেট্রোরেলের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবার আরও বেশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ জানায়, থার্টিফার্স্টের উৎসবের সুযোগে নানা ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে এবার সর্বাত্মক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ড. খ মহিদ উদ্দিন সময়ের আলোকে বলেন, ডিএমপির পক্ষ থেকে এবার থার্টিফার্স্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা একটু বেশি নেওয়া হয়েছে। প্রথমত সামনে নির্বাচন। তার মধ্যে চলছে কিছু রাজনৈতিক দলের নাশকতা। তবে আমরা সব ধরনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।
তিনি বলেন, রাজধানীর প্রবেশমুখের থানাগুলোতে অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। ঢাকার বাইরে থেকে যেন ওই রাতের অজুহাতে কোনো নাশকতাকারী প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য সাদা পোশাকে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট সার্বক্ষণিক টহলে থাকবে।
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ডিআইজি (অপারেশন) আনোয়ার হোসেন সময়ের আলোকে বলেন, সারা দেশেই পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। থার্টিফার্স্ট নাইটে নাশকতা সৃষ্টি করলে কঠোরভাবে দমন করা হবে। এর জন্য সারা দেশে পুলিশ সুপার, ডিআইজি ও পুলিশ কমিশনারদের নির্দেশ দিতে বলা হয়েছে। রেলপথ, বাসস্ট্যান্ড, বিমানবন্দর ও মহাসড়কে টহল বাড়ানো হয়েছে।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন সময়ের আলোকে বলেন, আসন্ন সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে রাজধানীসহ সারা দেশে র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী র্যাব ফোর্সেস শুক্রবার থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সব নির্বাচনি এলাকায় দায়িত্ব পালন করবে। এ ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে প্রস্তুত রয়েছে র্যাবের হেলিকপ্টার ও ডগ স্কোয়াড।
তিনি বলেন, থার্টিফার্স্ট নাইটে বিকাল থেকে র্যাব সদস্যরা রাজধানীসহ সারা দেশে বিশেষ অভিযান চালাবে। এদিন কেউ নাশকতার চেষ্টা করলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
মাঠে নেমেছে ১১৫১ প্লাটুন বিজিবি : নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে রাজধানীসহ সারা দেশে ১ হাজার ১৫১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’ এর আওতায় ২৯ ডিসেম্বর থেকে আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত ঢাকাসহ সারা দেশের নির্বাচনি এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবি টহল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে।
উপকূলীয় এলাকায় কোস্ট গার্ড মোতায়েন : গতকাল কোস্ট গার্ড সদর দফতরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার খন্দকার মুনিফ তকি জানান, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় ও বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিতে উপকূলীয় ৪৩টি ইউনিয়নে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত কোস্ট গার্ড সদস্যরা মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
এপিবিএন সূত্র জানায়, গতকাল থেকে রাজধানীসহ সারা দেশে ২০০ প্লাটুন এপিবিএন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
৩ জানুয়ারি মাঠে নামবে সেনাবাহিনী : নির্বাচন উপলক্ষে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আগামী ৩ থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে বলে জানিয়েছে আইএসপিআর সূত্র।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ শাহজাহান বিশ্বাস
অফিস : আরিচা, শিবালয়, মানিকগঞ্জ-১৮০০
মোবাইল : +৮৮০ ১৭১১ ৭৩৩ ৬৫১, ই-মেইল : sbnews74@gmail.com