
অনলাইন ডেস্ক: অভিশপ্ত জীবন বড়ই যন্ত্রণাদায়ক। আর তা যদি হয় আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর অভিশাপ, তবে তা দুনিয়া ও আখেরাতের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাড়ায়।
যেসব মানুষ আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল (সা.)-কে অস্বীকার করবে, সেসব মানুষের জন্য চিরকালের জন্য অভিশাপ। তাদের পৃথিবীর জীবন কাটে অশান্তি ও অস্থিরতায়, পরকালেও তারা সম্মুখীন হবে কঠিন আজাবের। এ জন্য কুফরি বা শিরক খুব ভয়াবহ বিষয়। কুফরি ও শিরকে লিপ্ত ব্যক্তি তওবা না করে যদি মারা যায় তার উপর আল্লাহর লানত বর্ষিত হয়।
পবিত্র কুরআনে এসেছে, ‘নিশ্চয়ই যারা অবিশ্বাস করে এবং অবিশ্বাসী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, তাদের ওপর আল্লাহর অভিশাপ এবং ফেরেশতা ও সারা মানবজাতির অভিশাপ’ (সুরা বাকারা : ১৬১-১৬২)। আরও বলা হয়েছে, ‘যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-কে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তাদের প্রতি ইহকাল ও পরকালে অভিশাপ করেন। আর তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন লাঞ্ছনাকর শাস্তি’ (সুরা আহজাব : ৫৭)। আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারীর ওপরও আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হয়। (সুরা মুহাম্মাদ : ২৩)
বেশভূষা পরিবর্তন করা উচিত নয়। যে নারী পুরুষের পোশাক গ্রহণ করে এবং যে পুরুষ নারীদের পোশাক ও চালচলন নকল করে, তাদের ওপর আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর অভিশাপ বর্ষিত হয়। আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রা.) বলেন, ‘আল্লাহর রাসুল (সা.) নারীর বেশ ধারণকারী পুরুষদের এবং পুরুষের বেশ ধারণকারী নারীদের অভিশাপ করেছেন’ (বুখারি : ৫৮৮৫)। ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতার ওপরও অভিশাপ বর্ষিত হয়। হাদিসে এসেছে, ‘রাসুল (সা.) ঘুষদাতা এবং ঘুষগ্রহীতা উভয়ের ওপর লানত করেছেন।’ (আবু দাউদ : ৩৫৮০)
পাপকাজে লিপ্ত ব্যক্তির ওপর আল্লাহর লানত (অভিশাপ) বর্ষিত হয়। এমন পাপীর দৃষ্টান্ত হলো, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘ওই ব্যক্তির ওপর আল্লাহর অভিশাপ, যে তার মা-বাবাকে অভিশাপ দেয়, ওই ব্যক্তির ওপর আল্লাহর অভিশাপ যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে পশু জবাই করে, ওই ব্যক্তির ওপর আল্লাহর অভিশাপ যে ব্যক্তি কোনো বিদআতিকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়, ওই ব্যক্তির ওপর আল্লাহর অভিশাপ, যে ব্যক্তি অন্যের বাড়ির নিশানা পরিবর্তন করে’ (অর্থাৎ জুলুম করে) নিজের করে নেয়। (মুসলিম : ১৯৭৮)
নবীজি (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি অন্যের একটা ডিম চুরি করে তার ওপর আল্লাহর অভিশাপ, অন্যায়ভাবে কেউ যদি একটা রশি চুরি করে তার ওপরও আল্লাহর অভিশাপ’ (বুখারি : ৬৭৮৩)। মদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দশ ব্যক্তির ওপর নবীজি (সা.)-এর অভিশাপ। আনাস বিন মালেক (রা.) বলেন, ‘মদের সঙ্গে সম্পৃক্ত ১০ শ্রেণির লোককে রাসুল (সা.) লানত করেছেন। মদ প্রস্তুতকারী, পানকারী, বহনকারী, যার জন্য বহন করা হয়, যে পান করায়, বিক্রয়কারী, এর মূল্য গ্রহণকারী, যে মদ ক্রয় করে এবং যার জন্য ক্রয় করা হয়’ (তিরমিজি : ১২৯৫)। এসব পাপকাজ থেকে বিরত থেকে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর অভিশাপ থেকে আমরা যেন বেঁচে থাকতে পারি। সুত্র: সময়ের আলো
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ শাহজাহান বিশ্বাস
অফিস : আরিচা, শিবালয়, মানিকগঞ্জ-১৮০০
মোবাইল : +৮৮০ ১৭১১ ৭৩৩ ৬৫১, ই-মেইল : sbnews74@gmail.com