
নিজস্ব প্রতিবেদক: মানিকগঞ্জের শিবালয়ে অবৈধ বালু ব্যাবসাকে কেন্দ্র করে পাটুরিয়া ঘাটে দু-বৃ-ত্তরা ধা-রালো অ-স্ত্র দিয়ে কো-পিয়ে মারাত্মা জ-খ-ম করেছে বালু ব্যবসায়ী জসিমকে। তিনি এখন মা-রা-ত্মক জ-খ-ম হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে আহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
সোমবার (২৬ মে) সন্ধ্যার দিকে পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় এক সংঘবদ্ধ দুবৃত্তরা বালু ব্যাবসায়ী জসীম খানের ওপর দে-শীয় অ-স্ত্র নিয়ে হা-মলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা জসীম খানকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। আহত জসিম খান দাসকান্দি গ্রামের কুদ্দুস খানের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় বালু ব্যবসা ও নীলাচল পরিবহনের সাথে জড়িত আছেন বলে জানান স্থানীয়রা।
জসিম খান জানান, উথুলী (নিহন্দ) এলাকার শ্রাবণ আহমেদ জসিম নামের এক যুবক ৫ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে দীর্ঘদিন যাবৎ মোবাইল ফোনে তাকে হুমকি দিয়ে আসছিলো। দাবিকৃত টাকা পরিশোধ না করার জের হিসেবে ওই লোক ৩০/৪০ জনের মুখোশধারী একটি স-ন্ত্রা-সী বা-হি-নী নিয়ে সোমবার সন্ধ্যার দিকে জসীম খানকে এলোপাথাড়ি কু-পি-য়ে মোটরসাইকেল যোগে দ্রুত পালিয়ে যায়।
শিবালয় থানা যুবদলের আহ্বায়ক মো. হোসেন সাংবাদিকদেরকে জানান, নিহন্দ এলাকার শ্রাবণ আহমেদ জসীম ছাত্রদলের নাম ভাঙিয়ে দাউদ, পলাশসহ ৪ জনে পাটুরিয়া ঘাটে একটি চাতাল নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ বালুর ব্যবসা করে আসছিল। যদিও শিবালয়ে ছাত্রদলের কার্যকর কোন কমিটি এখন নেই। তথাপি, সেই ছেলেটি ছাত্রদলের পরিচয় দিয়ে দাপটের সঙ্গে বালু ব্যবসা করে আসছিল। গত ৫ আগস্টের আগে এই ছেলেকে দলের কোন মিছিল মিটিংয়ে সক্রিয় দেখা যায়নি।
তিনি আরো জানান, এই জসীম তার অংশীদারদের নিয়ে পাটুরিয়া টার্মিনালের উত্তর পাশে কড়াই গাছের দক্ষিণ দিকে বাবুল মণ্ডলের জায়গা ভাড়া নিয়ে বালু স্তূপ করে রেখেছিলেন। পরবর্তীতে ওই জায়গার সমুদয় বালুসহ স্তূপীকৃত মূল জায়গার বালুও বিক্রি করে বিশাল আকৃতির গর্ত খুঁড়েছেন তারা। ব্যবসায়িক বনিবনা না হওয়ায় দাউদ এবং পলাশ জসীমের কাছ থেকে ব্যবসা বাদ দিয়ে চলে যায়। পরবর্তী সময়ে শ্রাবণ আহমেদ জসীমের সাথে ব্যবসায়িক কারণে যুক্ত হয় দাসকান্দি এলাকার সুজন।ছাত্রদলের পরিচয় দানকারী জসীমের বালুর স্তুপের পাশে অন্য একটি জায়গায় বালু ব্যবসায়ী জসীম খান চাতাল বানিয়ে বালু মাটি কাটা শুরু করেন। এই জায়গা থেকে মাটি কাটার প্রেক্ষিতে ছাত্রদলের পরিচয়দানকারী জসীম ও সুজন বলেন, এই মাটি তাদের। তাই জসীম খানের নিকট মাটি কাটা বাবদ ৩ লাখ টাকা দাবি করেন। এ বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দিয়েছে নিহন্দ এলাকার জসীম।
থানা যুবদল নেতা মো. হোসেন আরও জানান, থানায় অভিযোগের পর ওসি নিজেদের মধ্যে বিষয়টি সমাধান করে নিতে বালু ব্যবসায়ী ও নীলাচলের জসীমকে মোবাইল ফোনে জানিয়ে দেন। এরই প্রেক্ষিতে, সোমবার বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের বসার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু সন্ধ্যার দিকে নিহন্দ এলাকার জসীম তার দলবল নিয়ে নীলাচলের জসীম খানকে কুপিয়েছে। আরুয়া ইউনিয়ন যুবদলের রকিও হামলা থামাতে গিয়ে শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এটি অবশ্যই একটি ন্যক্কারজনক ঘটনা। এ ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষ আইনগত ও দলীয়ভাবে এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্তদের উপযুক্ত বিচার দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে বক্তব্য নেয়ার জন্য শ্রাবণ আহমেদ জসীমের মোবাইল ফোনে একাধিক কল দেয়া হলেও তার ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। একারণে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন সাংবাদিকদের জানান, বালু ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ছোট জসীম ও বড় জসিমের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। ঘটনার একদিন আগে শ্রাবন আহমেদ জসিম থানায় এসে জসিম খানের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগও করেন। এই হামলার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ শাহজাহান বিশ্বাস
অফিস : আরিচা, শিবালয়, মানিকগঞ্জ-১৮০০
মোবাইল : +৮৮০ ১৭১১ ৭৩৩ ৬৫১, ই-মেইল : sbnews74@gmail.com