
শাহজাহান বিশ্বাস: নাব্যতা সংকটের কারণে আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে তৃতীয় বারের মতো আবার ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফেরি কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিসি)। আরিচা ঘাটের অদুরে এ্যাপ্রোচ চ্যানেলে ফেরি চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত পানি না থাকায় ফেরিগুলো আটকে যাচ্ছিল বিধায় ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়ে এ নৌরুট। দুর্ঘটনা এড়াতেই শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে উক্ত নৌরুটে তৃতীয় বারের মতো ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিসির আরিচা ঘাটের ম্যানেজার আবু আব্দুল্লাহ।
বিআইডব্লিউটিসি’র আরিচা আঞ্চলিক অফিস সুত্রে জানা গেছে, যমুনা নদীতে দ্রুত গতিতে পানি হ্রাসের কারণে কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে ড্রেজিং করেও নাব্যতা ঠিক রাখা কঠিণ হয়ে পড়েছে। যে কারণে দফায় দফায় বন্ধ থাকছে ফেরি চলাচল। আরিচা ঘাটের অদুরের প্রায় ২শ’ গজ এলকা জুড়ে নৌ-চ্যানেলে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় ফেরি চলাচল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।এখানে পলি জমে সৃষ্টি হচ্ছে নতুন নতুন ডুবোচর। এতে নদীর গভীরতা কমে গিয়ে স্বাভাবিকভাবে ফেরি চলাচলে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। পানি হ্রাসের পরিমাণ এতই বেশী যে কারণে তিন মাসের বেশী সময় ধরে বিআইডব্লিউটিএ’র ৬টি ড্রেজার দিয়ে ড্রেজিং করেও চ্যানেল ঠিক রাখা যাচ্ছেনা। চ্যানেলে বার বার আটকে যাচ্ছিল ফেরিগুলো। এমতাবস্থায় ফেরি চলাচল অনেকটা ঝুকিপূর্ণ হওয়ায় কর্তৃপক্ষ শনিবার (১৬ নভেম্বর )সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে উক্ত নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এদিকে, ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে যানবাহন পারাপার। ফেরি পারাপার হতে আসা ঘাট এলাকায় পণ্যবাহী যানবাহনগুলোকে দিনের পর দিন অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। এতে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে এ রুটে নিয়মিত যাতায়াতকারি যাত্রী এবং পণ্যবাহী যানবাহনগুলোতে। সময় ও অর্থের সাশ্রয় হওয়াতে পাবনা, ইশ^রদীসহ উত্তরাঞ্চলের অনেক জেলার লোকজন এবং পণ্যবাহী ট্রাকগুলো এখন আরিচা-কাজিরহাট নৌরুট ব্যাবহার করে থাকে। বিকল্প পথে যেতে হলে সময় ও খরচ দুটোই বেড়ে যায় বলে জানিয়েছেন এ রুটে চলাচলকারি যানবাহন শ্রমিকরা।
বিআইডব্লিউটিসি’র আরিচা ঘাটের ম্যানেজার আবু আব্দুল্লাহ বলেন,এ নৌরুটে বর্তমানে ৪টি রো রো ফেরি চলাচল করছে। যানবাহন নিয়ে এসব ফেরি চলতে গেলে কমপক্ষে ৮ ফুট পানির গভীরতার প্রয়োজন হয়। সেখানে এ চ্যানেলে পানি রয়েছে কোথাও ৭ ফুট কোথাও সাড়ে ৭ফুট। এ অবস্থায় ফেরিগুলো ডুবোচরে আটকে যাচ্ছিল। শুস্ক মৌসুমের শুরুতেই নদীতে পানি কমতে থাকায় মূল চ্যানেলের বিভিন্ন অংশে ডুবোচর জেগে উঠছে। ওইসব স্থানে পানির গভীরতা ৬ ফুটেরও নিচে নেমে গেছে। এতে কোনোভাবেই ফেরি চলাচল করা সম্ভব হচ্ছে না।
বিআইডব্লিউটিসি আরিচা আঞ্চলিক কার্যালয়ের ডিজিএম নাসির মোহাম্মদ চৌধুরী বলেন, বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই নাব্যতা সংকটের কারণে আরিচা-কাজিরহাট নৌ রুটের আরিচা ঘাটের অদূরে চ্যানেল সরু হওয়ায় ফেরি চলতে গিয়ে ডুবোচরে আটকে যাচ্ছিল, ব্যাহত হচ্ছে ফেরি চলাচল। এরপরও হাফলোড নিয়ে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ফেরি সার্ভিস চালু রাখা হয়েছিল। কিন্তু নদীতে পানি দ্রুত কমতে থাকায় চ্যানেলটি একেবারেই সরু হয়ে গেছে। ফলে এ চ্যানেলটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় ফেরি চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ড্রেজিং করে চ্যানেল উপযুক্ত হলে ফেরি চলাচল করবে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ, এর আগেও চলতি বছর ১লা নভেম্বর রাত ১০টা থেকে সাড়ে ৩৭ ঘণ্টা ও ৮ই নভেম্বর রাত ১০টা থেকে ৬১ ঘণ্টা এবং সর্বশেষ ১৬ই নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে তৃতীয় বারের মতো নাব্য সংকটের কারণে আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ শাহজাহান বিশ্বাস
অফিস : আরিচা, শিবালয়, মানিকগঞ্জ-১৮০০
মোবাইল : +৮৮০ ১৭১১ ৭৩৩ ৬৫১, ই-মেইল : sbnews74@gmail.com