
অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশের উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’। মোখা ইতিমধ্যে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। এখন পর্যন্ত এর যে অবস্থান, তাতে এটি রোববার দুপুরের দিকে কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূল অতিক্রম করতে পারে। তবে এর অগ্রভাগের প্রবেশের কারণে আজ সন্ধ্যার পর থেকেই দক্ষিণ-পূর্ব উপকূল বা কক্সবাজার, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি হতে পারে।
কক্সবাজার অঞ্চলে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। মোখার প্রভাবে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। যদিও সরকারিভাবে ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় নানা ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় মহান আল্লাহর স্মরণাপন্ন হওয়া চাই। জান-মাল রক্ষায় তার কাছে প্রার্থনা করা চাই। সরকারি-বেসরকারি বাহ্যিক প্রস্তুতির পাশাপাশি নামাজ, দোয়া ও ইসতেগফারের মাধ্যমেও রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করা চাই।
হাদিসে বর্ণিত আছে, প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়া বইলে রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজে মশগুল হতেন। সাহাবাদের জীবনেও দেখা যায়, তারা বিপদে-মুসিবতে নামাজে দাঁড়াতেন ও ধৈর্য ধারণ করতেন। আল্লাহ তায়ালা মূলত কিছু কিছু বিপদাপদ ও বালা-মুসিবত দিয়ে মানুষকে সতর্ক করেন। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে- ‘আর আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফলফলাদির ক্ষতির মাধ্যমে। আর আপনি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন। যারা নিজেদের বিপদ-মুসিবতের সময় বলে, “নিশ্চয় আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয় আমরা আল্লাহরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী”, তাদের ওপরই রয়েছে তাদের রবের পক্ষ থেকে মাগফিরাত ও রহমত এবং তারাই হেদায়াতপ্রাপ্ত।’ (সুরা বাকারা: ১৫৫-১৫৭)
ঘূর্ণিঝড়ের সময় দোয়া ও আমল
প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় কিছু করণীয় সুন্নত আমল রয়েছে। হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, যখন কোথাও ভূমিকম্প, সূর্যগ্রহণ, ঝড়ো হাওয়া বা বন্যা হয়, তখন সবার উচিত মহান আল্লাহর কাছে তওবা করা, নিরাপত্তার দোয়া করা, মহান আল্লাহকে স্মরণ করা এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। এ ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ‘দ্রুততার সঙ্গে মহান আল্লাহর জিকির করো, তাঁর কাছে তওবা করো।’ (বুখারি : ২/৩০; মুসলিম: ২/৬২৮)
ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসসহ বিভিন্ন দুর্যোগে আশ্রয় ও যথাযোগ্য ব্যবস্থা নেওয়ার পরও মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করা সুন্নত। আয়েশা (রা.) বলেন, যখন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হতো এবং ঝড়ো হাওয়া বইত, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চেহারায় চিন্তার রেখা ফুটে উঠত। এই অবস্থা দেখে তিনি এদিক-সেদিক পায়চারি করতে থাকতেন এবং এ দোয়া পড়তেন- ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাহা ওয়া খাইরা মা-ফিহা ওয়া খাইরা মা-উরসিলাত বিহি, ওয়া আউজুবিকা মিন শাররিহা ওয়া শাররি মা-ফিহা ওয়া শাররি মা-উরসিলাত বিহি।’
অর্থ- ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করি এই ঝড়ের কল্যাণ, এর মধ্যস্থিত কল্যাণ, এর সঙ্গে প্রেরিত কল্যাণ। আমি আপনার কাছে পানাহ চাই এই ঝড়ের অনিষ্ট থেকে, এর মধ্যস্থিত অনিষ্ট থেকে, এর সঙ্গে প্রেরিত অনিষ্ট থেকে’ (বুখারি ও মুসলিম)। বুখারির আরেক বর্ণনায় ঝড়-তুফানে ছোট একটি দোয়ার উল্লেখ আছে, তা হলো- ‘আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়ালা আলাইনা।’ অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমাদের থেকে ফিরিয়ে নাও, আমাদের ওপর দিয়ো না।’
তা ছাড়া বৃষ্টিপাত বেশি হলে মহানবী (সা.) পড়তেন- ‘আল্লাহুম্মা হাওয়া-লাইনা, ওয়ালা আলাইনা; আল্লাহুম্মা আলাল আ-কাম ওয়াজ জিরাব ওয়া বুতুনিল আওদিআ; ওয়া মানাবিতিস শাজার।’ অর্থ- ‘হে আল্লাহ! আমাদের আশপাশে বৃষ্টি দিন, আমাদের ওপর নয়। হে আল্লাহ! পাহাড়-টিলা, খাল-নালা এবং গাছ-উদ্ভিদ গজানোর স্থানগুলোতে বৃষ্টি দিন।’ এরপর যখন বৃষ্টি হতো, তখন মহানবী (সা.) শান্ত হতেন। (বুখারি: ১০১৪)
আয়েশা (রা.) আরও বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছি যে, লোকজন মেঘ দেখলে বৃষ্টির আশায় আনন্দিত হয়ে থাকে, আর আপনি তা দেখে চিন্তিত হয়ে পড়েন?’ এর জবাবে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আমি এই ভেবে শঙ্কিত হই যে, বৃষ্টি আমার উম্মতের ওপর আজাব হিসেবে পতিত হয় কি না। কেননা আগের উম্মতদের ওপর এ পদ্ধতিতে (বৃষ্টি বর্ষণের আকারে) আজাব পতিত হয়েছিল।’ (বুখারি : ৩২০৬; মুসলিম : ৮৯৯)
প্রাকৃতিক দুর্যোগ এড়াতে করণীয়
মানুষ আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির সেরা জীব। তিনি অযথা শাস্তি দিতে চান না। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ হলো আল্লাহ তায়ালার অসন্তুষ্টি। আল্লাহর আজাব থেকে বাঁচার জন্য আমল পরিশুদ্ধ করার বিকল্প নেই। যে আমলে আল্লাহ খুশি হন, সে আমল বেশি বেশি করতে হবে। নামাজ, কুরআন তেলাওয়াত, দান-সদকাসহ নেক আমল করতে হবে। হাদিসে আছে, ‘সদকা আল্লাহর অসন্তুষ্টিকে নিভিয়ে দেয় এবং অপমৃত্যু রোধ করে।’ (সুনানে তিরমিজি : ৬০০)
সুতরাং সময় থাকতে আলোর পথে ফিরে আসা এবং নামাজ, তেলাওয়াত, দোয়া ও জিকির-আজকারে মশগুল হওয়া মুমিন মুসলমানের জন্য বাঞ্ছনীয়। আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে ঘূর্ণিঝড়সহ সব ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিপদাপদ থেকে হেফাজত করুন। আমিন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ শাহজাহান বিশ্বাস
অফিস : আরিচা, শিবালয়, মানিকগঞ্জ-১৮০০
মোবাইল : +৮৮০ ১৭১১ ৭৩৩ ৬৫১, ই-মেইল : sbnews74@gmail.com